জাতীয় আদিবাসী ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডসে উজ্জ্বল অস্ট্রেলিয়ার ফার্স্ট নেশনস শিল্পীরা। ছবি ঃসংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের ফার্স্ট নেশনস শিল্পী ও ডিজাইনারদের সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে স্বীকৃতি দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের ন্যাশনাল ইন্ডিজেনাস ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডস (এনআইএফএ)। ডারউইনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ফ্যাশন, টেক্সটাইল ও ঐতিহ্যবাহী অলংকারসহ বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বার্ষিক আদিবাসী ফ্যাশন আয়োজন হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কার অনুষ্ঠানটি ডারউইনের লারাকিয়া জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ভূমিতে অনুষ্ঠিত হয়। ডারউইন অ্যাবরিজিনাল আর্ট ফেয়ার ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ‘ইন্ডিজেনাস ফ্যাশন প্রজেক্টস’-এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আসরে ‘কমিউনিটি কোলাবোরেশন’ বিভাগে পুরস্কার জিতেছে নর্দার্ন টেরিটরির প্রত্যন্ত অঞ্চল ম্যানিংরিডার বাববারা উইমেন্স সেন্টার এবং ভারতের থারাঙ্গিনি স্টুডিওর যৌথ উদ্যোগ।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪টি গোত্রের ৭৮টি আদিবাসী নকশাকে কাঠের ব্লক প্রিন্টে রূপ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী শিল্পকলা এবং ভারতের শতাব্দী প্রাচীন কাঠের ব্লক প্রিন্টিং প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছে।
ভারত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে আসা থারাঙ্গিনি স্টুডিওর পদ্মিনী গোবিন্দ বলেন, ভাষাগত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিল্প ও কারুশিল্পের মাধ্যমে একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তার ভাষায়, এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আদিবাসী শিল্পীদের গল্প ও নকশা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাববারা উইমেন্স সেন্টারের প্রতিনিধি জ্যানেট মারাওয়ার বলেন, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যবাহী নকশা ও সংস্কৃতি শেখানো আরও সহজ হবে। এবারের আসরে সর্বোচ্চ ‘ইন্ডিজেনাস ফ্যাশন ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছেন কুইন্সল্যান্ডের কোয়ান্দামুকা অঞ্চলের ডেলভিন ককাটু-কলিন্স।
তিনি পরিবেশবান্ধব উপায়ে তৈরি পোশাক, গৃহসজ্জার সামগ্রী ও বিভিন্ন ফ্যাশন অনুষঙ্গের জন্য এই সম্মাননা অর্জন করেন। পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি বলেন, তার প্রতিটি কাজের শুরু হয় পরিবারের ইতিহাস ও পূর্বপুরুষদের গল্প থেকে। সেই গল্পই তিনি ফ্যাশনের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিল্পীদের একত্রিত করে তাদের গল্প ও সংস্কৃতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অন্যদিকে, টিওয়ি দ্বীপপুঞ্জের মিলিকাপিটি এলাকার শিল্পী মিশেল পুলাতুয়ায়ু উডি মিনাপিন্নি ‘ট্র্যাডিশনাল অ্যাডর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছেন।
তিনি পান্ডানাস পাতাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ও পাখির পালক দিয়ে হাতে তৈরি ঝুড়ি, বাহুবন্ধনী এবং ঐতিহ্যবাহী মাথার অলংকার তৈরি করেন। এই শিল্পকর্মের কৌশল তিনি তার বড় বোনের কাছ থেকে শিখেছিলেন, যিনি বর্তমানে প্রয়াত।
মিনাপিন্নি বলেন, এই স্বীকৃতি তার জন্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পূর্বপুরুষ ও প্রয়াত বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি সুযোগ। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে চান।
এবারের ন্যাশনাল ইন্ডিজেনাস ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডসের অন্যান্য বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন লিলার্ডিয়া ব্রিগস-হিউস্টন (টেক্সটাইল ডিজাইন), কিম্বার্লি অ্যাবরিজিনাল ফ্যাশন টেক্সটাইলস আর্ট (ব্যবসায়িক সাফল্য), লুসি সিম্পসন (ওয়্যারেবল আর্ট) এবং জেক পাওয়ার্স (সিসিলিয়া কুবিলো ইয়াং অ্যাচিভার অ্যাওয়ার্ড)।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ