বাংলাদেশ

আবু সাঈদ হত্যা: এএসআই আমির ও কনস্টেবল সুজনের ফাঁসি

  • 6:51 pm - June 14, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৪ বার
জুলাই শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৪ জুন- কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া বহুল আলোচিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। ৮০৯ পৃষ্ঠার এই রায়ে হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট, আসামিদের ভূমিকা, সাক্ষ্য-প্রমাণের বিশ্লেষণ এবং শাস্তি নির্ধারণের বিস্তারিত যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল গত ৯ এপ্রিল এ মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন।

রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মোট ৩০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচজনকে ১০ বছর, আটজনকে পাঁচ বছর এবং ১১ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একজন আসামির ইতোমধ্যে কারাভোগ করা সময়কে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আবু সাঈদের ওপর প্রাণঘাতী হামলায় তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম নয়ন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় মাধব।

১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদ বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান বেল্টু, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। অন্যদিকে তিন বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রলীগের একাধিক সাবেক নেতা।

মামলার আরেক আসামি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেলের ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময়কে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি অংশ। রায়ে ঘটনাপ্রবাহ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করে আদালত বিভিন্ন পর্যায়ের দায় নির্ধারণ করেছে।

রায় প্রকাশের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। এখন উচ্চ আদালতে আপিলসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের পথ উন্মুক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন যে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড ছিল একটি সাজানো নাটক। সেই সময় মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা এফআইর-এ পুলিশ দাবি করেছে, আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়নি বরং মামলায় পুলিশ এমন একটি বর্ণনা দিয়েছে যাতে আবু সাঈদ নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের ওপর দায় চাপানো হয়েছিল।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছিলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের বরখাস্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি।

ফেসবুক পোস্টে আবু সাঈদকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ঊর্মি লেখেন, মানে কত বড় বোকার স্বর্গে আছি এইটা শুধু চিন্তা করি। আবু সাইদ! বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাসী একটা ছেলে যে কী না বিশৃঙ্খলা করতে গিয়ে নিজের দলের লোকের হাতেই মারা পড়ল সে নাকি শহিদ! এটাও এখন মানা লাগবে!

তিনি আরও লেখেন, আর এই আইন ভঙ্গকারী সন্ত্রাসীর জন্য দেশের অথর্ব অতি প্রগতিশীল সমাজ কেঁদে কেটে বুক ভাসিয়েছে। তখন যাকেই বলার চেষ্টা করেছি পুরো ঘটনা তদন্তসাপেক্ষ, সেই দশটা কথা শুনিয়ে দিয়েছে। প্রশাসনে থেকে সরকারের দালাল হয়ে গিয়েছি এ কথা বুঝানোর তো বাকিই রাখনি।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঊর্মি লেখেন, এই যে একটা সন্ত্রাসীর মৃত্যুকে অজুহাত বানিয়ে কত নিরীহ পুলিশ ভাইদের হত্যা করা হলো তার দায়ভার কি এই অথর্ব সমাজ নিবে? এই ছেলের জন্য প্রধান উপদেষ্টা তার দলবল নিয়ে চলে আসলেন রংপুর। লালমনিরহাট থেকে এই উপদেষ্টা দলের জন্য আবার পাঠাতে হয়েছে গাড়ি। রংপুরের বাকি সাত জেলা থেকেও গাড়ি পাঠাতে হয়েছে।

আবু সাইদের বাড়িতে যাওয়ায় প্রধান উপদেষ্টার সমালোচনা করে তিনি আরও লেখেন, এই আহাম্মকি ভ্রমণের জন্য এত বড় গাড়িবহর পুরো বিভাগ থেকে যে গেল তার তেল খরচ কে দিয়েছে? যাই হোক, ভিডিওটা দেখুন। ভালো মতো দেখুন আর মুখস্থ করুন। আর কী বলব! পরবর্তীতে এই ম্যাজিস্ট্রেটকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আবু সাঈদের প্রকৃত হত্যাকান্ড একদিন হয়তো নতুন করে আবার উন্মোচিত হবে।

এই শাখার আরও খবর

নিখোঁজের দুই দিন পর বুড়িগঙ্গায় মিলল জাবি শিক্ষার্থী দ্বীপের মরদেহ

মেলবোর্ন,১৫ জুন- দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে…

কবে ও কীভাবে ফেরানো হবে বেনজীরকে?

মেলবোর্ন,১৫ জুন- সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং বাংলাদেশে…

সাঁতারুদের সুরক্ষায় সৈকতে ড্রোন ব্যবহারের নিয়ম পাল্টাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

মেলবোর্ন,১৫ জুন- সিডনির জনপ্রিয় কুগি সৈকতে হাঙরের হামলায় এক নারী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনার পর সমুদ্রসৈকতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সাঁতারু…

অভিবাসন সীমিত করতে গণভোটে সুইজারল্যান্ড, ‘সুইস ব্রেক্সিট’ বিতর্কে উত্তাল দেশ

মেলবোর্ন, ১৪ জুন- ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ সুইজারল্যান্ডে অভিবাসন নীতিকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। দেশটির জনগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে জনসংখ্যা…

পলাশবাড়ীর রামমূর্তি প্রকল্প: দৈনিক আমার দেশের অপপ্রচার

মেলবোর্ন, ১৪ জুন: গাইবান্ধায় নির্মিত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাম মূর্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একাধিক পেইজ, প্রোফাইল এবং একটিভিস্টরা ক্রমাগত ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’…

‘বার্তাটি পেয়েছি’-এক টুইটের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়লেন মাস্ক

মেলবোর্ন, ১৪ জুন-  বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তার সম্পদ নয়, বরং ছয় বছর…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au