নিখোঁজের দুই দিন পর বুড়িগঙ্গায় মিলল জাবি শিক্ষার্থী দ্বীপের মরদেহ
মেলবোর্ন,১৫ জুন- দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে…
মেলবোর্ন, ১৪ জুন- ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ সুইজারল্যান্ডে অভিবাসন নীতিকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। দেশটির জনগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। বিশ্লেষকদের অনেকে এই ভোটকে ‘সুইস ব্রেক্সিট মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
রোববার অনুষ্ঠিত এই গণভোটে ভোটাররা সিদ্ধান্ত দেবেন, ২০৫০ সালের আগে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটির বেশি হতে দেওয়া হবে কি না। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৯১ লাখ। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় বিবেকগত আপত্তি জানানোর সুযোগ সীমিত করার আরেকটি প্রস্তাবেও ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
জনমত জরিপে দেখা গেছে, দুটি ইস্যুতেই ভোটের ফল ঘনিষ্ঠ হতে পারে। ফলে পুরো ইউরোপের নজর এখন সুইজারল্যান্ডের দিকে।
বিতর্কিত প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছে ডানপন্থি রাজনৈতিক দল সুইস পিপলস পার্টি। দলটির দাবি, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেশের অবকাঠামো, আবাসন, পরিবহন ও সামাজিক সেবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তাই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমানো প্রয়োজন।
বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। ইউরোপের অন্য অনেক দেশের তুলনায় এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রস্তাবটি পাস হলে অভিবাসন প্রবাহে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে, যা দেশটির দীর্ঘদিনের উন্মুক্ত শ্রমবাজার নীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
তবে বিরোধীরা বলছেন, এই উদ্যোগ সুইজারল্যান্ডকে ইউরোপ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে। তাদের আশঙ্কা, অভিবাসন সীমিত করা হলে দক্ষ শ্রমিক সংকট তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, নির্মাণ ও সেবাখাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বিদেশি কর্মীদের ওপর দেশটির নির্ভরতা অনেক বেশি।
গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে উভয় পক্ষ। রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে ব্যানার, পোস্টার এবং রাজনৈতিক প্রচারণায় অভিবাসন প্রশ্নটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
ভোটকেন্দ্রগুলো স্থানীয় সময় রোববার সকালে কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলা থাকবে। তবে অধিকাংশ ভোটার আগেই ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। বিকেলের মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গণভোট শুধু অভিবাসন নীতির প্রশ্ন নয়; বরং সুইজারল্যান্ড ভবিষ্যতে কতটা উন্মুক্ত থাকবে এবং ইউরোপের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নেরও প্রতিফলন। তাই ফলাফল যেদিকেই যাক, এটি দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au