ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের জন্য শাস্তির বিধান রেখে ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ পাস
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান যুক্ত করে ‘পাবলিক পরীক্ষা…
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে দুই দেশের সীমান্তে বহু মানুষ অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি অন্তত ২১টি পুশব্যাক প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে আটক ব্যক্তিদের সীমান্তে নিয়ে গিয়ে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধার মুখে তারা আবার ভারতে ফিরতেও পারছেন না। ফলে সীমান্তবর্তী শূন্যরেখা বা ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের।
প্রতিবেদনে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোথাও কোথাও নারী ও শিশুসহ কয়েকটি পরিবার ৪৮ থেকে ৭৫ ঘণ্টা পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছে। পরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা ও পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, কোনো ব্যক্তিকে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্তে ঠেলে দেওয়া গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তিনি এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নাগরিকত্ব নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে দুই দেশের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাভাষী মুসলিমদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার সময় অনেকের নাম বাদ পড়ার পর তাদের আটক ও বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাটি দাবি করেছে, কিছু ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের আটক করে সীমান্তে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, অনেক বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছেন এবং তাদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, জোরপূর্বক বহিষ্কার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার পরিপন্থি এবং এতে ব্যক্তির নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে এবং কোনো মানুষকে দুই দেশের মাঝখানে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব নিয়ে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় পুশব্যাকের অভিযোগ, শূন্যরেখায় নারী-শিশুসহ পরিবারের অবস্থান এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বারবার বৈঠকের ঘটনা সীমান্ত পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর সমাধান না হলে এ সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং সীমান্তবর্তী মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au