কাতারের পতাকা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- কাতারে বসবাসরত প্রবাসীদের রেসিডেন্সি পারমিট (আকামা) সংক্রান্ত নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রবাসীর আকামা বাতিল হওয়ার পর তিনি সর্বোচ্চ ১৪ দিন কাতারে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করতে ব্যর্থ হলে তাকে জরিমানা গুনতে হবে।
সম্প্রতি কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে নতুন এই নিয়মের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে কাতারের বিমানবন্দর পাসপোর্ট বিভাগের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ আলী আল কুওয়ারি বলেন, আগে আকামা বাতিলের পর প্রবাসীরা ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পেতেন। তবে নতুন নিয়মে সেই সময়সীমা কমিয়ে ১৪ দিন করা হয়েছে।
তিনি জানান, আকামা বাতিলের পর নির্ধারিত ১৪ দিনের মধ্যে কাতার ত্যাগ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রতিদিন ১০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানা দিতে হবে। ফলে প্রবাসীদের সময়মতো দেশত্যাগ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে।
ওয়েবিনারে ভ্রমণকারী ও ভিজিট ভিসাধারীদের জন্যও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিজিট ভিসায় কাতারে অবস্থানকারীদের অবশ্যই ভিসার মেয়াদ ও অনুমোদিত অবস্থানকাল সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে কেউ অবস্থান করলে তাকে প্রতিদিন ২০০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানা দিতে হবে, যা অল্প সময়েই বড় অঙ্কে পৌঁছাতে পারে।
ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে কাতার ত্যাগের আগে ‘মেট্রাশ’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের আইনি অবস্থা ও নথিপত্র যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জরিমানা, ওভারস্টে ফি কিংবা সরকারি কোনো বকেয়া থাকলে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই তা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এছাড়া প্রবাসীদের জন্য মেট্রাশ অ্যাপের মাধ্যমে পুরোনো পাসপোর্ট থেকে নতুন পাসপোর্টে রেসিডেন্সি পারমিট স্থানান্তরের সুবিধার কথাও তুলে ধরা হয়। এতে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ দ্রুত ও সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে এবং দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমাতে ই-গেট ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন টার্মিনালে মোট ৭৬টি স্বয়ংক্রিয় ই-গেট চালু রয়েছে, যা যাত্রীদের দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে সহায়তা করছে।
ওয়েবিনারে কাতারে জন্মগ্রহণকারী নবজাতকদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কেও প্রবাসীদের সতর্ক করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশু জন্মের পর দ্রুত পাসপোর্ট বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে। এরপর নিজ দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে বাবার স্পন্সরশিপের আওতায় শিশুর রেসিডেন্সি পারমিট বা আকামা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
কাতার সরকারের নতুন এই নির্দেশনা দেশটিতে বসবাসরত লাখো প্রবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন থাকতে হবে, অন্যথায় জরিমানা ও আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।