মেসিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে অনন্য রেকর্ড গড়লেন ইংল্যান্ডের কেইন
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক…
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ভিয়েনা কনভেনশন ১৯৬১ এর ৪নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত পাঠানোর আগে গ্রহীতা রাষ্ট্রের “অ্যাগ্রিমঁ” বা গ্রহণযোগ্যতার সম্মতি গ্রহণ করে। এই সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত মনোনীত ব্যক্তি “ডিজাইনেট” হিসেবে বিবেচিত হন। আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ, ক্রেডেনশিয়াল পেশ এবং গার্ড অব অনার প্রদানের প্রক্রিয়া অ্যাগ্রিম প্রাপ্তির পরেই শুরু হয়।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই প্রোটোকল বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ৪ হাজার কিলোমিটারের সীমান্ত, ৫৪টি অভিন্ন নদী এবং প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্য ও রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিক মাত্রা পেয়েছে।
ভারত সরকারের মনোনীত হাইকমিশনার হলেন শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর পরিচয় তিনটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ:
১. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা: তিনি ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। রেলমন্ত্রণালয় ভারতের বৃহত্তম সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেখানে ১৩ লাখ কর্মী প্রতিদিন ২.৩ কোটি যাত্রীকে সেবা প্রদান করে। এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচায়ক।
২. সংসদীয় অভিজ্ঞতা: তিনি ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত আসন থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সংসদীয় কার্যক্রমের সময় তিনি পরিবহন, অর্থ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।
৩. ভাষা ও সাংস্কৃতিক যোগসূত্র: তিনি পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসী এবং বাংলা ভাষায় সাবলীল। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি বাংলায় যোগাযোগের সক্ষমতা কূটনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, বিশেষত সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনসম্পর্কের ক্ষেত্রে।
ব্যক্তিগত যোগাযোগের দিক:
মনোনীত রাষ্ট্রদূত শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী যশোরের বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পায়ে হেঁটে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তাঁর কথা বলার ভঙ্গি, উচ্চারণ ও আঞ্চলিক টান এ দেশের মানুষের মতোই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হিসেবে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির যে নৈকট্য তাঁর রয়েছে, তা প্রথম দর্শনেই অনুভব করা যায়। এ কারণে তাঁকে বিদেশি কূটনীতিকের চেয়ে প্রতিবেশী অঞ্চলের একজন মানুষ বলেই মনে হয়। ভাষাগত এই মিল কূটনীতির আনুষ্ঠানিকতার বাইরে মানুষে-মানুষে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সেতু তৈরি রাখতে পারে, কারণ তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছেন।
৪. নিয়োগের ব্যতিক্রমী দিক: ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নিযুক্ত ১৯ জন ভারতীয় হাইকমিশনারের মধ্যে ১৭ জনই ভারতীয় ফরেন সার্ভিস ক্যাডারের পেশাদার কূটনীতিক ছিলেন। তাঁদের সর্বোচ্চ পদমর্যাদা ছিল সচিব বা অতিরিক্ত সচিব। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ গত পাঁচ দশকে বিরল ঘটনা।
রাষ্ট্রদূত নিয়োগ প্রক্রিয়া-
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়: প্রস্তাব, অ্যাগ্রিমঁ, আগমন এবং ক্রেডেনশিয়াল পেশ। ভারত প্রতিবছর গড়ে ১৮০টি মিশনে রাষ্ট্রদূত বদল করে। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাগ্রিমঁ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে ২১ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে। জটিল ক্ষেত্রে এই সময় তিন মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। গ্রহীতা রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নিরাপত্তা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে।
উচ্চপ্রোফাইল নিয়োগের বার্তা-
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে তিনটি বার্তা প্রকাশ পায়।
প্রথম, রাজনৈতিক গুরুত্ব: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপানের মতো দেশে ভারত প্রায়ই রাজনীতিবিদদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। সেখানে আইনসভা, ব্যবসায়ী মহল ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন হয়। পেশাদার কূটনীতিকের তুলনায় রাজনীতিবিদের নেটওয়ার্ক এই ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
দ্বিতীয়, ভাষা ও সংস্কৃতির সেতু: বাংলা ভাষায় পারদর্শী রাষ্ট্রদূত স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করতে পারেন। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ১.২ বিলিয়ন ডলার, যার উল্লেখযোগ্য অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে সম্পাদিত হয়। ভাষাগত দক্ষতা এই বাণিজ্যিক যোগাযোগে গতি সঞ্চার করতে পারে।
তৃতীয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি যোগাযোগ: রাজনৈতিক পটভূমির রাষ্ট্রদূত প্রেরক রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পান। পেশাদার কূটনীতিককে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক চ্যানেল অনুসরণ করতে হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ-
রাষ্ট্রদূত নিয়োগে বিলম্ব অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। ২০১৯ সালে ভারতের পাকিস্তানে হাইকমিশনার নিয়োগ চার মাস স্থগিত ছিল। ২০২১ সালে চীনের যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগেও তিন মাস সময় লেগেছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ হিসেবে চারটি বিষয় বিবেচনা করা যায়: প্রশাসনিক যাচাই, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং রাষ্ট্রপতির সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয়।
সংখ্যায় প্রতিবেশের সম্পর্ক-
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গভীরতা পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৫.৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ১.৫ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ১৪.৪ বিলিয়ন ডলার। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
২০২৪ সালে ভারত বাংলাদেশের নাগরিকদের ১.৭ মিলিয়ন ভিসা প্রদান করেছে। প্রতিদিন গড়ে ৪৬০টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, যার ৭০ শতাংশ মেডিকেল ভিসা। চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য প্রতিদিন হাজারো বাংলাদেশি ভারত গমন করেন।
ভারত বাংলাদেশকে ৮ বিলিয়ন ডলারের লাইন অব ক্রেডিট প্রদান করেছে। এই অর্থায়নে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, খুলনা-কলকাতা রেলপথ এবং আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণাধীন। বাংলাদেশে পাঁচ লাখের বেশি ভারতীয় নাগরিক কর্মরত এবং ভারতে দশ লাখের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস ও অধ্যয়ন করছেন।
পরিবেশ ও পানি সম্পদ-
পরিবেশ কর্মী হিসেবে পর্যবেক্ষণ হলো, দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভরশীল। ৫৪টি অভিন্ন নদীর মধ্যে গঙ্গা, তিস্তা ও ফেনী নদী বিশেষভাবে আলোচিত। গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
আন্তঃসরকার জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্যানেল আইপিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে এই নদীগুলোর পানির প্রবাহ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। একজন রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা। ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় পানি সহযোগিতার মডেল প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ইউরোপের রাইন নদী ব্যবস্থাপনা এই ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্রের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, নদী কেবল পানির উৎস নয়, এটি দুই দেশের যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদী এই অঞ্চলের ইতিহাস ও সভ্যতা গঠনে অবদান রেখেছে।
গার্ড অব অনার প্রদানের নিয়ম-
আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নিকট ক্রেডেনশিয়াল পেশ করার পরই রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং গার্ড অব অনার লাভের যোগ্য হন। ঢাকায় আগমনের পর রাষ্ট্রদূত প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ক্রেডেনশিয়ালের অনুলিপি জমা দেন। অতঃপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করে মূল ক্রেডেনশিয়াল পেশ করেন। এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়।
নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব ও প্রস্তাব –
বাংলাদেশ ও ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশগুলোর নির্বাচিত সরকারের উচিত অন্যান্য দেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। পেশাদার কূটনীতিকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক চর্চা বিবেচনায় প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যুক্তিসংগত। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলোতে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলোতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হয় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ ও ভারতের ক্ষেত্রে এই নিয়োগ নীতি অনুসরণ করলে বাণিজ্য, পানি, সীমান্ত ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে। নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধিত্বমূলক চরিত্র এই নিয়োগের মাধ্যমে আরও সুস্পষ্ট হবে।
রাষ্ট্রদূত নিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে। তবে আলোচনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও কূটনৈতিক রীতি মেনে চলা আবশ্যক। ভারত বাংলাদেশকে গুরুত্ব প্রদান করে, যা বাণিজ্য, ভিসা প্রদান, ঋণ সহায়তা ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশও ভারতকে গুরুত্ব প্রদান করে, কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, নদী ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
শ্রী দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও ভাষাগত দক্ষতা কূটনৈতিক প্রোটোকলের সঙ্গে সমন্বিত হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। প্রত্যাশা হলো, তিনি পানির ন্যায্য বণ্টন, সীমান্তে প্রাণহানি হ্রাস এবং জনগণের যাতায়াত সহজীকরণে অগ্রাধিকার প্রদান করবেন।
রাষ্ট্রদূতগণ আসেন এবং যান, কিন্তু নদী প্রবাহিত হয়, মানুষ থেকে যায় এবং সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। সেতু মজবুত হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগও সেই সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না।

সরদার সেলিম রেজা। ছবিঃ সংগৃহীত
লেখক- সরদার সেলিম রেজা; রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পরিবেশ কর্মী, সভাপতি: বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au