যোগ: আমার অভিজ্ঞতায় শরীর-মন-আত্মার মিলন ও জাতির শ্বাস-প্রশ্বাস
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০১৫ সাল থেকে সারাবিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। আমি নিজে প্রথম ২০১৭ সালের ২১ জুন ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতীয় হাইকমিশনের…
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে কাতারের বিপক্ষে এক নাটকীয় ও ঘটনাবহুল ম্যাচে ৬-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে কানাডা। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ছিল ছয়টি গোল, একটি হ্যাটট্রিক, দুটি লাল কার্ড, একটি আত্মঘাতী গোল এবং কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের ভয়াবহ পা ভাঙার ঘটনা। সব মিলিয়ে ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৮তম স্থানে থাকা কানাডা শুরু থেকেই ৫৮তম স্থানে থাকা কাতারের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। নিজেদের মাঠে খেলা কানাডা আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে কাইল লারিন গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। এরপর ২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জোনাথন ডেভিড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে কানাডাকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধেই বড় ধাক্কা খায় কাতার। ৩৩তম মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ড তেজন বুকানানকে বিপজ্জনক ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ। ফলে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। ৫২তম মিনিটে কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে পেছন থেকে ভয়ঙ্কর ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। ট্যাকলের পর মাঠে লুটিয়ে পড়েন কোনে। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, তার বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে।
ঘটনার পর মাঠজুড়ে নেমে আসে শোকাবহ পরিবেশ। চিকিৎসকরা দ্রুত মাঠে প্রবেশ করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। নিজের খেলোয়াড়ের এমন ভয়াবহ চোট দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কানাডার প্রধান কোচ জেসে মার্চ। তাকে চোখের পানি মুছতেও দেখা যায়।
প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদলে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে কাতার নয়জনের দলে পরিণত হয়। ম্যাচ প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট বন্ধ থাকে।
দুই খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলতে থাকা কাতারের বিপক্ষে এরপর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে কানাডা। ৬৪তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা নাথান সালিবা ফ্রি-কিক থেকে চতুর্থ গোল করেন। গোল উদযাপনের সময় তিনি আহত ইসমায়েল কোনের জার্সি তুলে ধরে সতীর্থের প্রতি সমর্থন জানান। এই দৃশ্য দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।
এরপর ৭৫তম মিনিটে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে বসেন কাতারের মোহাম্মদ মানাই। আত্মঘাতী ওই গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০। যোগ করা সময়ে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জোনাথন ডেভিড এবং কানাডার জয়কে ৬-০ ব্যবধানে নিয়ে যান।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বাগতিক দেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করা মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান ডেভিড। প্রায় ৬০ বছর পর কোনো স্বাগতিক দেশের খেলোয়াড় বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন। এর আগে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট এই কীর্তি গড়েছিলেন।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয়ও তুলে নিল কানাডা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে তারা। এর আগে ১৯৩৪ সালে ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে ৭-১, ১৯৫০ সালে ব্রাজিল সুইডেনকে ৭-১ এবং ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা পেরুকে ৬-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল।
অন্যদিকে কাতারও একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের অংশ হয়ে গেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে একই ম্যাচে একটি আত্মঘাতী গোল করার পাশাপাশি দুই খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছে তারা।
গ্রুপ পর্বের এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে কানাডা। সমান পয়েন্ট থাকা সুইজারল্যান্ড গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। কাতারের জন্য এই বড় পরাজয় তাদের পরবর্তী পর্বে ওঠার সম্ভাবনাকে কঠিন করে তুলেছে।
গোল, নাটকীয়তা, আবেগ, বিতর্ক ও ভয়াবহ চোটে ভরা এই ম্যাচ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হিসেবে দীর্ঘদিন আলোচিত থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au