ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় দুই দিনের ব্যবধানে আবারও একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার মেঘচামী ইউনিয়নের শতবর্ষী বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে একটি শিবমূর্তির মাথা ভেঙে ফেলে। পরপর দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরটি এলাকার একটি প্রাচীন ধর্মীয় উপাসনালয়। মন্দিরটির চারপাশে পাকা দেয়াল ও গ্রিল থাকলেও দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাঁশ বা লাঠি প্রবেশ করিয়ে ভেতরে থাকা শিবমূর্তির মাথা ভেঙে দেয়। ঘটনার সময় মন্দিরে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
মন্দিরের পূজারী বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বৃহস্পতিবার ভোরে মন্দিরে গিয়ে প্রতিমার ভাঙা অংশ দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি মন্দির পরিচালনা কমিটি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী মন্দিরে ভিড় করেন।
বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে। তিনি দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে এ নিয়ে একই এলাকায় দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বামুন্দী বাজারের একটি কালীমন্দিরে কালীদেবীর প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনায়ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
বামুন্দী বাজার কমিটির সভাপতি নিরোদ চক্রবর্তী জানান, সোমবার রাতের ঘটনার পর এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। কারা প্রতিমা ভাঙচুর করেছে সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রথম ঘটনার পর পুলিশকে জানানো হলে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাটি বেশি প্রচার না করার এবং দ্রুত ভাঙা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার পরামর্শ দেন। তাদের দাবি, ওই পরামর্শের ভিত্তিতেই বাজারের মন্দিরে ভাঙচুর হওয়া প্রতিমাটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিসর্জন দেওয়া হয়।
যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুকদেব রায়। তিনি বলেন, কোনো ঘটনা চেপে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, “আমি কেন কোনো ঘটনা গোপন করতে বলব বা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানাব? বাজারের মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো মামলা করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সর্বশেষ বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায়ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, পরপর দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর পেছনে কারা জড়িত এবং দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au