তীব্র বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২১ জুন- টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন…
মেলবোর্ন, ২১ জুন- স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজকে দুর্নীতির অভিযোগে জুরি বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তার বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি স্পেনের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত আদালতের আদেশে জানানো হয়, মামলার বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাডো বেগোনা গোমেজকে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে দুইবার আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং স্পেনের সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে একটি উগ্র ডানপন্থী দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে গোমেজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে তহবিল আত্মসাৎ, প্রভাব খাটানো এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদ্রিদের কমপ্লুটেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ পদ সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন। এছাড়া ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের জন্য সরকারি সম্পদ ব্যবহার এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে বলে আদালত জানিয়েছে।
তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন বেগোনা গোমেজ ও প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারকে বিব্রত করতেই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে স্পেনের ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দল গোমেজের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে দাবি করেছেন, গত দুই বছর ধরে বেগোনা গোমেজ রাজনৈতিক ও বিচারিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের মতে, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো এই ইস্যুকে ব্যবহার করছে।
তবে বিরোধী দলগুলো বিষয়টিকে সরকারের জন্য বড় ধরনের নৈতিক সংকট হিসেবে দেখছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। যদিও পেদ্রো সানচেজ সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তার সরকারকে দুর্বল করার জন্যই ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো ধারাবাহিকভাবে এমন অভিযোগ উত্থাপন করছে।
শুধু বেগোনা গোমেজ নন, সাম্প্রতিক সময়ে সানচেজ সরকারের কয়েকজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাই ডেভিড সানচেজের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। ফলে একের পর এক অভিযোগে স্পেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে সামনে রেখে ক্ষমতায় আসা পেদ্রো সানচেজের জন্য পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ঘিরে তৈরি হওয়া এসব বিতর্ক আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর এখন স্পেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনেকটাই নির্ভর করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au