তিন মামলায় জামিন পেলেন মমতাজ
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- দুটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। এর…
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ময়মনসিংহ সদর উপজেলার একটি সার্বজনীন পূজা মন্দিরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কালী ও লক্ষ্মী প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের পাঁচ কাহনিয়া গ্রামের দত্তবাড়ী সার্বজনীন পূজা মন্দিরকে ঘিরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। প্রায় ৩৭ বছর ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা এ মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা করে আসছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোর আনুমানিক পৌনে ৬টার দিকে লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক যুবক মন্দিরের সামনে এসে প্রথমে একটি বাঁশ এবং পরে একটি ইট ব্যবহার করে মন্দিরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি মন্দিরে থাকা কালী ও লক্ষ্মী প্রতিমা ভাঙচুর করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কল্পনা রানী সিংহ জানান, ভোরে পূজার জন্য বাড়ির ছাদবাগান থেকে ফুল তুলছিলেন। এ সময় মন্দিরের ভেতর থেকে শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখেন, এক যুবক তালা ভেঙে মন্দিরে ঢুকেছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি চিৎকার করে আশপাশের মানুষকে ডাকতে শুরু করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে আসার আগেই ওই যুবক মন্দিরের প্রতিমা ও বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, পরে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায় কালী ও লক্ষ্মী প্রতিমাসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন চন্দ্র দত্ত বলেন, প্রায় ৩৭ বছর ধরে এই মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা হয়ে আসছে। কিন্তু এর আগে এমন কোনো ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি। তিনি জানান, এলাকার মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। স্থানীয় মুসলিমরাও সবসময় সহযোগিতা করেছেন। তাই কী উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা নিয়ে তারা বিস্মিত।
তিনি আরও বলেন, মন্দিরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বিমল চন্দ্র বলেন, এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। হঠাৎ এমন ঘটনা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িত ব্যক্তির বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au