ডেঙ্গুতে এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৭১
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার…
মেলবোর্ন, ৫ জুলাই- টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক নারীসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বিভাষ সরকার। তিনি উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। শুক্রবার থেকে ছড়িয়ে পড়া ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি হাতে একটি চিকন লাঠি নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। পরে একটি মাটির স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং অশালীন ভাষায় কথা বলেন। একপর্যায়ে ওই নারী প্রতিবাদ করলে পাশে থাকা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন তিনি। পরে ওই নারী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করতে দেখা যায় ভিডিওতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি গত ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার তেঘরী কেশব গ্রামের একটি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে বাসন্তী রানী নামের এক নারীর জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাষ সরকারও একই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসন্তী রানীর পরিবার বহু বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। পরবর্তীতে পারিবারিক মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে জমিটি পরিবারের সদস্যদের নামে হস্তান্তর হয়। সেই জমি ও পার্শ্ববর্তী চলাচলের পথ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
বাসন্তী রানীর অভিযোগ, তাদের পরিবারের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা এবং মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান রাস্তার অজুহাতে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং বিরোধ করলে মারধর করেন। পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান বিভাষ সরকারের ভয়ে এলাকায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের দাবি, সামান্য বিষয়েও তিনি লোকজনকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
ছাওয়ালী বাজার এলাকার বাসিন্দা বিপুল দাস অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর আগে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এ নিয়ে আদালতে মামলা পর্যন্ত গিয়েছিল। পরে মামলাটি খারিজ হলেও তারা এখনও জমি নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। তিনি দাবি করেন, রাস্তার কাজে বাধা দেওয়ায় তিনি কঞ্চি দিয়ে শাসন করেছেন। তার ভাষায়, “ওই মহিলা ভালো না। স্কুলের পাশে থাকা জায়গায় রাস্তা করতে গেলে তিনি বাধা দেন।”
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au