নেইমার জুনিয়র।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই- ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, যে মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রার সূচনা হয়েছিল, সেখানেই যেন তার পথচলার সমাপ্তি ঘটল।
যদিও নেইমার আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি, তবে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা ঘিরে অবসরের জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতালির খ্যাতনামা ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো এক্সে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার।
রোমানোর পোস্টে নেইমারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেখানে নেইমার বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর আজ এখানেই আমি শেষ করলাম। সবকিছু এখন শেষ।” এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০১০ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেকের পর টানা ১৬ বছর দেশের হয়ে খেলেছেন নেইমার। এই সময়ে তিনি চারটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি।
অলিম্পিক ফুটবলেও নেইমারের অবদান উল্লেখযোগ্য। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে ব্রাজিলকে রৌপ্য পদক জিততে সহায়তা করার পর ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফুটবলে স্বর্ণপদক জয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি।
৩৪ বছর বয়সী নেইমার ব্রাজিলের জার্সিতে ১২৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে রেকর্ড ৮০টি গোল করেছেন, যা তাকে দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। গোল করার পাশাপাশি অসংখ্য অ্যাসিস্ট ও ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ব্রাজিল আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসার প্রতীক ছিলেন।
চলমান বিশ্বকাপে ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যার কারণে শুরুর একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাননি নেইমার। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি মাত্র দুটি ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেন এবং শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে টুর্নামেন্টে নিজের একমাত্র গোলটি করেন।
তবে সেই গোলও ব্রাজিলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। নরওয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। অন্যদিকে ব্রাজিলের বিদায়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেইমারের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘনিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।