মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক ব্যয় কমিয়ে দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কর্মী চাকরি হারাতে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতে এআইকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় এটি আরেকটি বড় ছাঁটাই। চলতি বছর অ্যামাজন, মেটা এবং অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে, কারণ এআই প্রযুক্তিতে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগের চাপ সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে।
বাজার বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই-সংক্রান্ত বিনিয়োগ ৭০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অতিক্রম করতে পারে। এই বিশাল ব্যয় থেকে দ্রুত মুনাফা নিশ্চিত করা এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাইক্রোসফটের জন্যও চলতি বছরটি সহজ যাচ্ছে না। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ কমে গেছে, যা ২০২২ সালের পর বছরের প্রথমার্ধে তাদের সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রতি বছরের মতো অর্থবছর শেষ হওয়ার সময় নতুন বাজেট ও ব্যয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এবারও কর্মী পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা অ্যাজিউর এআই প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদার কারণে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও, এই সেবা পরিচালনার জন্য নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত ওপেনএআই-এর মডেলগুলোর একমাত্র ক্লাউড সরবরাহকারী ছিল অ্যাজিউর, যা প্রতিষ্ঠানটির আয় বাড়াতে সহায়তা করেছে। তবে একই সঙ্গে অবকাঠামো নির্মাণের ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে।
মাইক্রোসফট ইতোমধ্যে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য ১৯ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি। মাসের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ফলাফল প্রকাশের আগে এই ছাঁটাইয়ের ঘোষণা প্রযুক্তি খাতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিস্তার ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রাতিষ্ঠানিক কাজ মানুষের পরিবর্তে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে। ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়লেও প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।