গাজার শাসনভার ছেড়ে দিল হামাস
মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- গাজা উপত্যকায় প্রায় দুই দশকের শাসনের পর নিজেদের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গাজার বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব একটি…
মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় একটি এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিব, ট্যাগ অফিসার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ মোট ৯ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, তদন্তে প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের পরীক্ষা-সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সচিব আসাদুল হক, কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ার হোসেন, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির তিন সদস্য এবং দুইটি কক্ষে দায়িত্বরত চারজন পরিদর্শক শিক্ষক।
ঘটনাটি ঘটে গত ২ জুলাই, এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে। ওইদিন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় ভুলবশত ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা পান ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র।
ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল হাসান জানান, শুরুতে ভুল তথ্য পাওয়া গেলেও পরে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, মোট ৬১ জন পরীক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ জন নিয়মিত এবং ১১ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার ঘটনা।
পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের অসঙ্গতি বুঝতে পেরে ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অভিভাবকদের সঙ্গে তারা কেন্দ্র সচিবের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করেন। তবে একপর্যায়ে কেন্দ্রে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠান। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন এবং কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে নতুন ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন।
এছাড়া ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শকদেরও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পরীক্ষা পরিচালনায় আরও কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au