মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- যৌন নিপীড়ন ও মানবপাচার মামলার অন্যতম আলোচিত ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রের মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করা জিউফ্রেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা। এ কারণে তার মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি উদঘাটনে করোনিয়াল ইনকোয়েস্ট (মৃত্যু তদন্ত) পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার করোনারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পার্থ শহরের উত্তরে নিজ মালিকানাধীন একটি খামারবাড়িতে ৪১ বছর বয়সে ভার্জিনিয়া জিউফ্রের মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর আগে তিনি পারিবারিক সহিংসতা-সংক্রান্ত একটি আইনি মামলার মুখোমুখি ছিলেন। পরিবারের দাবি, তার জীবনের শেষ সময়ে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ও পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব তাকে চরম সংকটের মধ্যে ফেলে দেয়।
ভার্জিনিয়া জিউফ্রে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান মার্কিন অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার মাধ্যমে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কিশোরী বয়সে এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল তাকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে পাচার করেছিলেন। সেই অভিযোগের মধ্যে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামও উঠে আসে। যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়নি। পরে জিউফ্রের দায়ের করা দেওয়ানি মামলা আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
মৃত্যুর প্রায় ছয় মাস পর প্রকাশিত হয় ভার্জিনিয়া জিউফ্রের আত্মজীবনী ‘নোবডিজ গার্ল’, যেখানে তিনি শৈশব থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের নির্যাতন, এপস্টেইনের নেটওয়ার্কে জড়িয়ে পড়া এবং ন্যায়বিচারের জন্য তার সংগ্রামের বর্ণনা তুলে ধরেছেন।
জিউফ্রের ভাই স্কাই রবার্টস ও ভাবি আমান্ডা রবার্টস তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছেন, তার মৃত্যুর পেছনে সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা, মানসিক সহায়তার ঘাটতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রভাব নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। তাদের মতে, এ তদন্ত শুধু জিউফ্রের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনই করবে না, বরং ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিবারের এই আবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার করোনারের কার্যালয় কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।