মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- গাজা উপত্যকায় প্রায় দুই দশকের শাসনের পর নিজেদের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গাজার বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব একটি টেকনোক্র্যাট কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক চাপ এবং যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই হামাস এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজ জানিয়েছে, ২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল ফাতাহ-কে সশস্ত্র সংঘর্ষে পরাজিত করে গাজার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর থেকে হামাসই উপত্যকার প্রশাসন পরিচালনা করে আসছিল। এর আগে ২০০৬ সালের ফিলিস্তিনি আইনসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল সংগঠনটি।
হামাসের সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-তাওয়াবতা জানান, সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও সরকারি ক্ষমতা ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)-এর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজার শাসনভার থেকে সরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত রাখার অজুহাত দূর করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর সফলতা নিশ্চিত করতে হামাস সব ধরনের সরকারি দায়িত্ব হস্তান্তরে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এনসিএজি দ্রুত গাজায় প্রবেশ করে কাজ শুরু করবে বলে তারা আশা করছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় বোর্ড অব পিস-এর তত্ত্বাবধানে এনসিএজি গঠন করা হয়। টেকনোক্র্যাট আলি শাথের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির ওপর গাজার বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব অর্পণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে হামাস প্রশাসনিক দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, তারা অস্ত্র সমর্পণের পক্ষে নয়। এদিকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে হামাস, মিশরীয় মধ্যস্থতাকারী এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।
জানা গেছে, ইসরায়েলের আপত্তির কারণে এনসিএজি এখনো গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি এবং কয়েক মাস ধরে উপত্যকার বাইরে অবস্থান করছে। একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বর্তমানে উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সর্বশেষ সোমবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের এই পদক্ষেপ গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো ও যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিলেও নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।