ভারী বৃষ্টির মধ্যে মুম্বাইয়ে ভবন ধস, নিহতদের পাঁচজনই শিশু।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই- ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কায় শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নাগরিকদের অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি এবং কয়েকটি এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণে শহরের বহু নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিএমসি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই নিরাপদ। কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সহায়তার জন্য সংস্থাটির ১৯১৬ নম্বর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু থাকলেও বিভিন্ন রুটে বিলম্ব দেখা দিয়েছে। বৃহন্মুম্বাই ইলেকট্রিক সাপ্লাই অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট (বেস্ট)-এর বাস ও মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও শহরতলির রেলপথে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলাচল করছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।
আবহাওয়া পরিস্থিতির পাশাপাশি সমুদ্রের জোয়ারের কারণেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার বিকেলে প্রায় ৪ দশমিক ১৯ মিটার উচ্চতার জোয়ার এবং সোমবার ভোরে আরও ৩ দশমিক ৫১ মিটার উচ্চতার জোয়ার আঘাত হানতে পারে। এ কারণে উপকূলীয় ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
শনিবারের প্রবল বর্ষণে মাত্র ১২ ঘণ্টায় শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এতে বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে, বিভিন্ন সড়কে ধস নেমেছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক ও রেল যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে।
টানা বৃষ্টির প্রভাব শুধু মুম্বাইতেই সীমাবদ্ধ নয়। পার্শ্ববর্তী থানে, পালঘর, নভি মুম্বাই এবং পুনে অঞ্চলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস, সড়ক জলমগ্ন হওয়া এবং বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত নাগরিকদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।