অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে রহস্যময় মহাকাশের বল। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই- অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের একটি সৈকত থেকে উদ্ধার হওয়া রহস্যময় ছয়টি ধাতব গোলককে বিদেশি কোনো রকেটের ধ্বংসাবশেষের অংশ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে অস্ট্রেলিয়ান মহাকাশ সংস্থা। সংস্থাটির মতে, কক্ষপথে থাকা একটি রকেট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় এসব ধাতব বস্তু বিচ্ছিন্ন হয়ে সমুদ্রে পড়ে এবং পরে ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে সৈকতে উঠে আসে।
গত শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে টাউনসভিল শহরের উত্তরে অবস্থিত ফরেস্ট বিচ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা একে একে ছয়টি গোলাকৃতির ধাতব বস্তু দেখতে পান। এতে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ থাকার আশঙ্কায় পুলিশ ও দমকল বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিটি বস্তুর চারপাশে ৫০ মিটার এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনে।
অস্ট্রেলিয়ান মহাকাশ সংস্থার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো দেখতে মহাকাশযানের চাপধারক জ্বালানি ট্যাংক বা প্রেসার ভেসেলের মতো। এর গঠন ও অবস্থান বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো সম্প্রতি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা একটি বিদেশি রকেটের অংশ। তবে রকেটটি কোন দেশের এবং কোন মহাকাশ মিশনের ছিল, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
মহাকাশ প্রত্নতত্ত্ব ও মহাকাশ বর্জ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অ্যালিস গোরম্যান জানান, এ ধরনের চাপধারক ট্যাংক সাধারণত রকেটের জ্বালানি সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। এগুলো বিশেষ ধরনের টাইটানিয়াম সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি হওয়ায় অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রাও সহ্য করতে পারে। ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরও অনেক সময় এগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় মাটিতে পৌঁছায়। তিনি বলেন, এমন ঘটনা রকেট উৎক্ষেপণে কোনো ত্রুটি হয়েছে, এমনটি নির্দেশ করে না।
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের মহাকাশবিষয়ক চুক্তি অনুযায়ী মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের মালিকানা উৎক্ষেপণকারী দেশের কাছেই থাকে। ফলে উদ্ধার হওয়া এসব বস্তু ফেরত নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।
এর আগে ২০২৩ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের একটি পুরোনো রকেটের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হলেও ভারত সেটি ফেরত নেওয়ার আগ্রহ দেখায়নি।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ান মহাকাশ সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, একই রকেটের আরও ধ্বংসাবশেষ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ভেসে আসতে পারে। তাই সন্দেহজনক কোনো ধাতব বস্তু দেখতে পেলে সেটিতে হাত না দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে দ্রুত জরুরি সেবা সংস্থাকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশ থেকে পড়ে আসা ধ্বংসাবশেষে মানুষের হতাহতের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। নথিভুক্ত একমাত্র ঘটনা ঘটে ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে, যখন এক নারীর কাঁধে একটি রকেটের ফাইবারগ্লাসের টুকরো পড়ে। তবে ওই ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হননি।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান