মেলবোর্ন, ৬ জুলাই- মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে আসার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ওপেক প্লাস। বিশ্লেষকদের ধারণা, জোটভুক্ত সাতটি সদস্য দেশ রোববার অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে আগামী আগস্ট মাসের জন্য অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
সৌদি আরব, রাশিয়াসহ ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ অনলাইনে বৈঠকে বসে বিদ্যমান উৎপাদন নীতি পর্যালোচনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পূর্বে নেওয়া উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের অংশ হিসেবেই নতুন করে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইউবিএস ব্যাংকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেছেন, বৈঠকে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ওপেক প্লাসের কয়েকটি সদস্য দেশ এখনও নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ঘোষিত উৎপাদন বৃদ্ধির পুরো প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে দেখা নাও যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি ও উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে মে মাস পর্যন্ত সৌদি আরব, ইরাক ও কুয়েতের সম্মিলিত তেল উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত কমে যায়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছিল।
তবে গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে আসে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওপেক প্লাস যদি উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করে, তবে বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা মিলবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর জ্বালানি সংকটের চাপও কিছুটা কমতে পারে।