মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যে ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় দুই দেশের আলোচিত নেতা পলিন হ্যানসন ও নাইজেল ফারাজ লন্ডনে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক কৌশল, জনসমর্থন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তারা মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্য বার্নাবি জয়েস।
অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী দল ওয়ান নেশন-এর নেতা পলিন হ্যানসনের জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুন মাসের নিউজপোল জরিপে দলটির প্রাথমিক ভোটের হার ৩১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজও দেশটির রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ইউগভ-এর সর্বশেষ জরিপে রিফর্ম ইউকেকে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক রিফর্ম ইউকেকে এখন একটি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করছেন, যেখানে দুই বছর আগে এই হার ছিল মাত্র ১৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাজ্যের প্রচলিত দুই-দলীয় রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বার্নাবি জয়েস বলেন, দুই নেতার এই বৈঠক অত্যন্ত যৌক্তিক। তাঁর ভাষায়, রাজনীতিবিদদের একে অপরের অভিজ্ঞতা ও কৌশল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত, যাতে তারা নিজেদের দেশের জন্য আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান জনমত জরিপের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে নাইজেল ফারাজ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
নাইজেল ফারাজকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালের যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে ৬৫০ আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে জয় পেলেও ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ওই নির্বাচনে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি ৪১১টি আসন জিতে সরকার গঠন করে। যুক্তরাজ্যের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২০২৯ সালে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যে ডানপন্থী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনের প্রেক্ষাপটে হ্যানসন ও ফারাজের এই বৈঠক ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয় ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করতে পারে।