পশ্চিমবঙ্গে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন
মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং পুরো ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যায় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা সারারাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি। রোববার সকালে একটি পুকুরের পাশে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনাস্থলে শোক ও ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটিকে চার ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর তারা পুলিশের কাছে গেলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়রা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ গণপিটুনিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ মানুষ সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কর্মীকে আটক করে। এছাড়া শিশুটির ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের মহাপরিদর্শক কঙ্করপ্রসাদ বারুই বলেন, গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো বিষয়টি তদন্তে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, শিশুহত্যা এবং গণপিটুনি, উভয় ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পরে পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।