পারেদেসকে লাল কার্ড দেওয়ার খবর নাকচ করলো ফিফা
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ শেষে সংঘর্ষের ঘটনায় আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়ে…
মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে নতুন করে কোভিড-১৯ সংক্রমণ এবং দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ওড়িশা সরকার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে নতুন মহামারির সূচনা হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। তাদের মতে, টিকাদান এবং আগের সংক্রমণের ফলে অধিকাংশ মানুষের শরীরে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে, ফলে ব্যাপক আকারে করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখন অনেক কম।
ভারতের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশে সম্প্রতি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও আটজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর আক্রান্ত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ র্যাপিড রেসপন্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কাদাপ্পা জেলায় প্রথমে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৩ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়। এই দুই মৃত্যুর পর স্থানীয় প্রশাসন সংক্রমণের উৎস ও বিস্তার পর্যবেক্ষণে তৎপরতা বাড়িয়েছে।
এদিকে মুম্বাইয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কুমার শানুর ছেলে জান কুমার শানু কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত রোববার তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার অসুস্থতার খবরও ভারতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ওড়িশা সরকার সীমান্তবর্তী মালকানগিরি, কোরাপুট, রায়গড়া, গজপতি, গঞ্জাম ও নবরঙ্গপুর জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। এসব এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং শুরু হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ওড়িশায় নতুন কোনো কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি, তবুও সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। হায়দরাবাদের যশোদা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট চিকিৎসক ড. দিলীপ গুড়ে জানান, অন্ধ্রপ্রদেশে মারা যাওয়া দুই ব্যক্তি আগে থেকেই ডায়াবেটিস, লিভার ও কিডনির জটিল রোগে ভুগছিলেন। তার মতে, সাধারণ মৌসুমি ফ্লুতেও এ ধরনের রোগীদের গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই এই মৃত্যুকে নতুন কোনো বড় করোনা সংকটের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অধিকাংশ মানুষের শরীরে পূর্ববর্তী সংক্রমণ এবং ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির ফলে ‘হাইব্রিড ইমিউনিটি’ বা সম্মিলিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে অতীতের মতো বড় আকারের সংক্রমণ বা জাতীয় পর্যায়ে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
আস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের প্রধান ড. শিবরাজ এ এল বলেন, কোভিড-১৯ এখন একটি এন্ডেমিক বা স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত রোগে পরিণত হয়েছে। তাই সময়ে সময়ে ছোটখাটো সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তবে বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগে নজরদারি, পরীক্ষা এবং ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণের মতো প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই প্রস্তুত রয়েছে। এজন্য আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, সংক্রমণ বাড়ার যেকোনো ইঙ্গিত দ্রুত শনাক্ত করতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au