সাভার সেনানিবাসের প্রবেশদ্বার থেকে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য অপসারণ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: সাভার সেনানিবাসের পদাতিক গেট থেকে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক একটি ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনায় ইতিহাস সচেতন নাগরিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন মহল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিষয়টি ঘিরে ভাস্কর্যটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাভার সেনানিবাস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী ৯ম পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি সেনাসদস্য, কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং বীরত্বের স্মৃতি ধারণ করতেই সেনানিবাসের প্রবেশপথে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন স্মারক ও ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সেনানিবাসের প্রবেশমুখে স্থাপিত এসব ভাস্কর্যের উদ্দেশ্য ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা এবং নতুন প্রজন্মের সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সম্পর্কে অনুপ্রাণিত করা।
বিশেষ করে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে উদ্বোধন করা “আমরা তোমাদের ভুলবো না” স্মারকটি মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। এছাড়াও পদাতিক বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তুলে ধরতে সেনানিবাসের বিভিন্ন স্থানে স্মারক স্থাপন করা হয়।
জানা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক উন্নয়ন এবং সেনানিবাসের প্রবেশপথ আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নতুন পদাতিক তোরণ নির্মাণ করা হয়। সে সময়ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও পদাতিক বাহিনীর ঐতিহ্যকে তুলে ধরার বিষয়টি নকশায় গুরুত্ব পেয়েছিল।
সম্প্রতি সেই প্রবেশদ্বার থেকে ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কেন এটি সরানো হয়েছে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এ ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে আগ্রহী অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। সেই ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্মারক, ভাস্কর্য ও প্রতীকগুলো কেবল শিল্পকর্ম নয়, বরং জাতির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইতিহাসবিদ ও সচেতন মহলের অভিমত, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী যেকোনো স্থাপনা বা ভাস্কর্য নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ সংরক্ষণ নীতি, স্বচ্ছতা রাখা প্রয়োজন।