প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যের পর শিক্ষাবিভাগের 'ইউটার্ন'সহ যা হলো।
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি পালের ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও ট্রোলের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের পর ভিডিওটি নিয়ে তদন্ত বা কমিটি গঠনের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই, যখন ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি পাল নিজের ফেসবুক পেজে জনপ্রিয় ব্যান্ড ডিফারেন্ট টাচের ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সঙ্গে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে হাঁটতে দেখা যায় তাঁকে। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং তিনি সাইবার হয়রানিরও শিকার হন।
এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা একই গান ব্যবহার করে নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলে ভিডিও পোস্ট করতে শুরু করেন। কেউ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, কেউ সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিডিও প্রকাশ করে বিউটি পালের প্রতি সংহতি জানান। এসব পোস্টে তাঁরা উল্লেখ করেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে হয়রানির প্রতিবাদ জানাতেই তাঁদের এই উদ্যোগ।

বিউটি পাল।
ভিডিওটি নিয়ে বিতর্কের জেরে বিউটি পাল গত ২৪ জুলাই ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগে তিনি জানান, তাঁর ভিডিওটি বিকৃত ও অতিরঞ্জিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে বিব্রত করা হচ্ছে। ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ফরেনসিক ইউনিটের সহায়তায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে ভিডিওটি সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করেছিল সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। তবে সোমবার সিলেট সফরে গিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর জানা মতে আলোচিত ভিডিওতে কোনো অশ্লীলতা নেই। তিনি বলেন, গান গাওয়া বা এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করাকে অন্যায় মনে করার কোনো কারণ তিনি দেখেন না, যদি সেখানে অশ্লীল কিছু না থাকে।
প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই অবস্থান পরিবর্তন করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদ জানান, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে আর তদন্ত বা কমিটি গঠনের প্রয়োজন দেখছেন না তাঁরা।
শিক্ষা অঙ্গনে আলোচিত এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত প্রকাশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাইবার হয়রানির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে একজন শিক্ষকের ভিডিও ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক কীভাবে প্রশাসনিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায় এবং পরে নীতিগত অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে, সেটিও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।