মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন
সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই: ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। প্রবল তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া এবং ঝোড়ো বাতাসের কারণে গ্রিস, স্পেন ও ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রিসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে তিনজন দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে স্পেন ও ফ্রান্সে লাখো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশাল বনভূমি পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বহু বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থার জানিয়েছে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপ এবং মূল ভূখণ্ডে প্রবল বাতাসের মধ্যে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় প্রাণ হারান তিন দমকলকর্মী। গ্রিসের দমকল বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, ক্রিটের ক্রিয়া ভ্রিসি গ্রামের কাছে আগুনের দুটি অংশের মাঝখানে আটকা পড়ে দুই দমকলকর্মী মারা যান। আরেকজন দমকলকর্মী পেলোপনেস অঞ্চলের একটি পৃথক দাবানলে নিহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রবল বাতাসের কারণে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা আগিয়া গালিনির দিকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ক্রিয়া ভ্রিসিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে বাসিন্দা ও পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ক্রিসা জিউকাকি বলেন, বাতাস এতটাই শক্তিশালী ছিল যে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। আগুনের বিশাল শিখা দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
আগিয়া গালিনির একটি হোটেলের মালিক হারালামপোস সেভাস জানান, পর্যটকদের বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি সাড়া সমন্বয় কেন্দ্র সতর্ক করেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে গ্রিস ও ইতালিতে দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরা বাড়ছে, যা দাবানলকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
স্পেনেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা সতর্ক করে বলেছেন, সামনে আরও তিনটি কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। কারণ উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রবল বাতাস আগুন নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলবে।
যদিও আভিলা ও মাদ্রিদ অঞ্চলের কিছু দাবানল আংশিক নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবুও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জামোরা প্রদেশে নতুন দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ছয়টি শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশের অন্তত ছয়টি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এসব এলাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও ভয়াবহ দাবানল অব্যাহত রয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। বিকেলের শুষ্ক বাতাস আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফরাসি দমকলকর্মীরা বোর্দো শহরের পশ্চিমে বড় একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংকট এখনো কাটেনি। লেজ-ক্যাপ-ফেরে এবং লে তঁপল এলাকায় আবারও নতুন করে আগুন জ্বলে উঠেছে। সেখানে ট্রাক, পানির পাইপ ও আকাশপথে বিমান ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
ফ্রান্সের দমকল বাহিনীর কমান্ডার মাত্যু জোমাঁ বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী তাপমাত্রা ও বাতাসের গতি আবার বাড়তে পারে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।
দাবানলে ফ্রান্সের পর্যটন এলাকা লঁদ অঞ্চলের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর পাইন বন ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুন ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপের দিকে ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের সমুদ্রতীরবর্তী শহর বিসকারোসের বাসিন্দা রাফায়েল ফোহানো নিজের পরিবারের বাড়ি আগুনে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, মাত্র এক ঘণ্টা আগেও তিনি নিজের ঘরে ছিলেন, কিন্তু পরে ফিরে এসে দেখেন সেখানে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় তার বাবা-মা ও বোনকে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বজ্রঝড়, তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়া এবং বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ার কারণে দাবানলের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। তবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এখনো উচ্চ ঝুঁকি বজায় থাকবে।
দাবানলের সুযোগে অপরাধও বেড়েছে। ফরাসি পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চুরি ও প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন খালি বাড়ি থেকে গয়না চুরির অভিযোগে, দুজন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে খাবার চুরির অভিযোগে এবং আরেকজন নিজেকে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিলেন।
স্পেনের পূর্বাঞ্চলের কাস্তেইয়োন প্রদেশেও বড় একটি দাবানল এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সেখানে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ এখনো বাড়িতে ফিরতে পারেননি। তবে স্থানীয় মানুষের প্রচেষ্টায় লা ভিলাভেয়া এলাকার একটি পশু চিকিৎসা হাসপাতাল আগুনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে। এর ফলে শুধু দাবানল নয়, অতিরিক্ত গরমে হাজারো মানুষের মৃত্যু, পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, নদীপথে পণ্য পরিবহনে সমস্যা এবং বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিচ্ছে।
এর ড্রোনে ধারণ করা ভিডিওতে স্পেনের আভিলা প্রদেশের এল তিয়েম্বলো এলাকায় আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া বনভূমির মধ্যে হরিণের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ তারা আগে কখনো দেখেননি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au