দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ব্যাহত হওয়া গ্যাস সরবরাহ আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ…
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- ভারত সফররত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসিএসএ) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তাঁর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করে, ভারত একজন “পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারীকে” নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে দুই পক্ষের বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্য
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী এবং তাঁর প্রয়াত ভাই শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা আন্দোলন কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর ভাষ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে এক দফা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই একসময় আন্দোলনটিকে “সুনিপুণভাবে পরিকল্পিত” এবং এর পেছনে “মাস্টারমাইন্ড” থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা তাঁর মতে আন্দোলনটি পূর্বপরিকল্পিত হওয়ার প্রমাণ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলনের সময় অন্তত ৩ হাজার পুলিশ সদস্য নিহত, নির্যাতিত বা হামলার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪৬০টি থানা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “রাষ্ট্রের কি জীবন ও সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব নেই?”
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দাবি, ওই দমন-পীড়নে এক হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হন।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর হত্যাকাণ্ডের বিচারিক তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, গত দুই বছরে অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিহত বা গুম হয়েছেন, প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এক কোটিরও বেশি মানুষকে বিভিন্ন মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাসভবন ধাপে ধাপে ধ্বংস করা হয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলার প্রচেষ্টার অংশ।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের সময় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা বর্তমানে ২ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। খেলাপি ঋণের হার ১৩ শতাংশ থেকে ৪৭ শতাংশে এবং দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার ভাগ্যে যা-ই থাকুক, আমি আমার জনগণের কাছে ফিরে যাব।” তিনি জানান, দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে করা “বানোয়াট মামলায়” তাঁকে গ্রেপ্তার বা কারাবরণ করতে হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া
শেখ হাসিনার বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি প্রকাশ করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, একজন “দণ্ডিত গণহত্যাকারী” ও “দণ্ডিত গণহত্যার আসামিকে” নয়াদিল্লিতে সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। এতে অভিযোগ করা হয়, শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীরা ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আগেই ভারত সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে এ ধরনের অনুষ্ঠান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অসম্মান।জাতিসংঘের হতাহতের তথ্য নিয়ে শেখ হাসিনার প্রশ্ন তোলার বিষয়টিকে “ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা” বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রত্যর্পণ ইস্যুও সামনে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকা একাধিকবার অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত ভারত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে যেকোনো অজুহাতে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং দুই দেশের সুসম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।
কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ এবং দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে বিচার ও মামলার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au