এথেন্সে গ্যাস বিস্ফোরণে ৪ মার্কিন নাগরিকসহ নিহত ৬
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা প্লাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি দোতলা ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন…
ঢাকার মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুই থেকে আড়াইশো মানুষের একটি দল প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ঘর গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় দুই নিরাপত্তারক্ষীকে জিম্মি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঘটনার পর শনিবার সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে টিকা ও চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সরঞ্জাম। চেয়ার, টেবিল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়েছে। পুরো স্থাপনাটি অনেকটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের দাবি, হামলার সময় সরকারি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির টিকা, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ টাকা, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনাটির পেছনে মূলত জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে। তবে রাতের আঁধারে কেন একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হলো এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে ঢাকার শাহআলী থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় হানিফ মিয়া নামে একজনের পরিচয় উল্লেখ করে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় ৫০ বছর ধরে সরকারি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ওই জমি ব্যবহার করে আসছে। ডা. নাসরিন আখতার জানান, ১৯৭৬ সাল থেকে সরকারের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি ওই জমি ব্যবহার করছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে চুক্তি নবায়নও করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময় একাধিক ব্যক্তি জমিটির মালিকানা দাবি করেছেন এবং এ নিয়ে মামলা ও পাল্টা মামলার ঘটনাও ঘটেছে।
তার দাবি, হামলার পর দুর্বৃত্তরা প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানার টাঙিয়ে দেয়। ওই সমিতির নামে জমিটি বরাদ্দ ও রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলে একটি সাইনবোর্ডেও উল্লেখ রয়েছে। সেখানে জমির পরিমাণ ১০ কাঠা বলে লেখা আছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, জমিটি নিয়ে গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে জটিলতা রয়েছে। এর আগেও জায়গা খালি করা নিয়ে নানা ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে স্থানীয় অনেকেই রাজি হননি।
শনিবার প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটক তালাবদ্ধ দেখা যায়। সেখানে সরকারি টিকাদান কর্মসূচির দুটি ব্যানার টাঙিয়ে কয়েকজনকে বাইরে বসে টিকাদান কার্যক্রম চালাতে দেখা যায়। ভাঙচুরের কারণে কার্যালয়ের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ১৯৭৪ সালে মিরপুর এলাকায় স্বল্প আয়ের পরিবারের নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা বার্নেন, তৎকালীন সুইডিশ ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা দিতে কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হয়।
দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, শিশুদের টিকাদান এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে মূলত টিকাদান কেন্দ্র হিসেবেই চেনেন।
ডা. নাসরিন আখতার বলেন, জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে সমাধান করা যেত। সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে তারা জায়গাটি ব্যবহার করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার তাদের সরে যেতে বললে তারা সেটি মেনে নিতেন। কিন্তু হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এমন পরিস্থিতি তৈরি করার যৌক্তিকতা নেই।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ঘটনার সমালোচনা করেছেন। জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করে বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, রাতের আঁধারে হামলা ও ভাঙচুরের মাধ্যমে নয়।
শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এত বড় ধরনের ভাঙচুর অল্প সময়ের মধ্যে করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। পুলিশের ভূমিকা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au