নিষিদ্ধ হতে পারেন নেইমার
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়র আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। কোপা দো ব্রাজিলে রেমোর বিপক্ষে সান্তোসের জয়ের পর ম্যাচ-পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে তিনি শাস্তির…
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন এবং পরীক্ষাগারে কার্যকরভাবে বংশবিস্তার করতে সক্ষম ভাইরাস তৈরি করে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। বিজ্ঞানীদের দাবি, ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এআইয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ একটি ভাইরাসের জিনোম সফলভাবে নকশা করা হয়েছে। গবেষণাটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতের জৈব নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগও তৈরি করেছে।
গবেষকদের তৈরি ১৬টি নতুন ভাইরাস পরীক্ষাগারে সফলভাবে ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এসব ভাইরাস মানুষের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না। এগুলো বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিওফেজ, যা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হাই বলেন, এর আগে এআই ব্যবহার করে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির গবেষণা হলেও সম্পূর্ণ নতুন এবং কার্যকর ভাইরাসের জিনোম নকশা করা অনেক বেশি জটিল ছিল। তাঁর ভাষায়, এটি জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির সক্ষমতার এক নতুন ধাপ। প্রথমবারের মতো এআই এমন একটি সম্পূর্ণ জিনোম তৈরি করেছে, যা কোষের ভেতরে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম।
গবেষণায় ব্যবহৃত ইভো-১ (Evo1) এবং ইভো-২ (Evo2) নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ এবং মানুষের বিপুল পরিমাণ জেনেটিক তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে এই মডেলগুলোকে এমনভাবে উন্নত করা হয়, যাতে তারা ব্যাকটেরিওফেজের নতুন জিনোম ডিজাইন করতে পারে।
গবেষকরা এআইয়ের তৈরি ৩০২টি সম্ভাব্য নকশার মধ্যে কয়েকটি পরীক্ষাগারে সংশ্লেষণ করেন। এর মধ্যে ১৬টি সফলভাবে ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক স্যামুয়েল কিং বলেন, পরীক্ষার সময় পেট্রি ডিশে ব্যাকটেরিয়ার স্তরের মধ্যে পরিষ্কার দাগ দেখা দেওয়ার পরই তারা বুঝতে পারেন নতুন ভাইরাসগুলো কার্যকর হয়েছে। ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর গবেষণাগারে উপস্থিত গবেষকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতালিতে ফেটে পড়েন।
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের নতুন ব্যাকটেরিওফেজ তৈরি করে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হওয়ায় এই প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই গবেষণার সাফল্যের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা সতর্কতাও উচ্চারণ করেছেন। তাদের মতে, একই প্রযুক্তি অপব্যবহার করে ভবিষ্যতে নতুন রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস তৈরি করা হলে তা বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার সঙ্গে থাকা এক মন্তব্যে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির গবেষক ড. থমাস ইংলেসবি এবং ড. মরিটজ হ্যাঙ্কে বলেন, এই অগ্রগতি জরুরি জৈব নিরাপত্তা ও বায়োসিকিউরিটি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের মতে, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই প্রযুক্তিকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে তা মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং কোনো ধরনের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি না হয়।
গবেষকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এমন কোনো ভাইরাস নিয়ে কাজ করেননি। পুরো গবেষণাই উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন পরীক্ষাগারে পরিচালিত হয়েছে এবং কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফেজ নিয়েই গবেষণা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ভাইরাসকে এখনো জীবন্ত প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এবং এআইয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ জীবন্ত প্রাণী তৈরি করতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে ভবিষ্যতে আরও জটিল জৈবিক কাঠামো তৈরির সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
স্পেনের পম্পেউ ফাবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক গুয়েল এই গবেষণাকে বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রথমবারের মতো মানুষ কম্পিউটারের মাধ্যমে জীববিজ্ঞানের নকশা তৈরির বাস্তব সক্ষমতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক প্যাট্রিক কাই বলেন, এই গবেষণা শুধু নতুন ব্যাকটেরিওফেজ তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভবিষ্যতে এআইনির্ভর জিনোম নকশা, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au