সৌদি আরবের মানচিত্র। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের নাজরান এলাকায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি সামরিক বাহিনী। হামলার পর সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। এ ঘটনার খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
সৌদি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, বৃহস্পতিবার সংঘটিত হামলায় আহতদের মধ্যে সাতজন সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিশরীয় এবং একজন পাকিস্তানি প্রবাসী রয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ধারাবাহিক হামলার ফলেই নাজরান অঞ্চলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ইয়েমেনের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে পরিচালিত আরেকটি হামলার দায় স্বীকার করে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ইয়েমেন সরকারের অন্তত ৩০ জন সেনাসদস্য নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হন।
অন্যদিকে, হুতি গোষ্ঠীর এক নেতা দাবি করেছেন, সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে শত শত মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে। তবে সৌদি আরবের ভেতরে বেসামরিক নাগরিকদের আহত হওয়ার ঘটনায় হুতি গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি কিংবা এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একাধিক সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং চলমান সংঘাতের প্রভাব পুরো অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
সুত্রঃ এপি