ইউএফও–সংক্রান্ত আরও ৪১টি নথি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) বা অজ্ঞাত আকাশীয় ঘটনা (ইউএপি) সংক্রান্ত আরও ৪১টি নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে।…
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার জন্য অভিযুক্তের পরিবর্তে স্কুল চলাকালে বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করার অভিযোগে ভুক্তভোগী ছাত্রীকেই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি উপজেলার কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের। ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কাঁচপুর ইউনিয়নের একটি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অভিযুক্ত ছেলেটির বয়স প্রায় সাড়ে ১১ বছর। সে কাঁচপুরের রায়েরটেক এলাকার ভাড়াটিয়া পরিবারের সন্তান। তার বাবা রিকশাচালক এবং মা পোশাক কারখানার শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) মেয়েটিকে লাথি মারার ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলের পোশাক পরা দুই ছাত্রী হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় একটি ছেলে পেছন থেকে এসে এক ছাত্রীকে লাথি মারে। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে তাকে আবারও পেছন থেকে লাথি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগে ঘটেছিল। ওই দিন বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়েতে ঘুরতে গেলে অভিযুক্ত ছেলেটি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে পরপর দুইবার লাথি মারে। ছেলেটির সঙ্গে থাকা একজন পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। পরে বৃহস্পতিবার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত ছেলেটিকে স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে কান ধরে ওঠবস করানোর আরেকটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ছেলেটিকে বলতে শোনা যায়, “আমি একটি মেয়েকে লাথি মেরেছি। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আমি এর জন্য ক্ষমা চাইছি। ভবিষ্যতে আর এমন ভুল করব না। আমি কাঁচপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছি।”
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, ভিডিওটি প্রায় এক মাস আগের। কিন্তু ভিডিও প্রকাশের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্কুল চলাকালে বাইরে ঘোরাফেরার অভিযোগ তুলে তাঁর মেয়েকে টিসি দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। কাজ করে সংসার চালাই। এখন এই স্কুলে মেয়েকে আর পড়ানো যাবে না। অন্য একটি স্কুলে ভর্তি করাতে হবে।”
অভিযুক্ত ছেলেটির বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান।
ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দুই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটায় স্থানীয় লোকজন ছেলে ও ছাত্রীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এবং তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au