রাশিয়ার তেল-গ্যাস কিনলেই ১০০% শুল্ক, চাপে ভারত-চীন
মেলবোর্ন,৯ আগষ্ট: রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর…
মেলবোর্ন,৯ আগষ্ট: অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করেছেন গবেষকেরা। পরীক্ষাগারে এসব ভাইরাস পুনরুৎপাদনও করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই সাফল্য একই সঙ্গে জৈব নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি ক্ষতিকর জীবাণু বা জৈব অস্ত্র তৈরিতেও অপব্যবহার হতে পারে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এ কাজে ইভো১ (Evo1) ও ইভো২ (Evo2) নামের দুটি এআই মডেল ব্যবহার করেছেন। সাধারণ ভাষাভিত্তিক এআই মডেলের মতো এগুলোকে মানুষের ভাষা বিশ্লেষণের জন্য নয়, বরং ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ ও মানুষের জেনেটিক কোডের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য অনুমান করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, এআই ব্যবহার করে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে পারে এমন ব্যাকটেরিও ফাজের শত শত নকশা তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ১৬টি নকশা পরীক্ষাগারে সফল ভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে।
গবেষকদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ চিকিৎসায় ব্যাকটেরিওফাজ গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করা সংক্রমণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে এ ধরনের ভাইরাস ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হি বিবিসিকে বলেন, জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে সম্পূর্ণ জিনোমের নকশা তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন ধাপ। তাঁর মতে, এআইয়ের মাধ্যমে এমন একটি জৈবিক কাঠামোর নকশা করা হয়েছে, যা নিজে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে এবং কোষের ভেতরে অন্যান্য কার্যক্রমও পরিচালনা করতে পারে।
তবে গবেষণাটির সঙ্গে প্রকাশিত মন্তব্যে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির গবেষকেরা এটিকে জরুরি জৈব নিরাপত্তা ও বায়ো সিকিউরিটি প্রশ্নের জন্ম দেওয়া একটি ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, এখন প্রশ্ন আর শুধু এআই দিয়ে নতুন ভাইরাসের জিনোম তৈরি করা সম্ভব কি না, তা নয়। বরং এই প্রযুক্তি কীভাবে গুরুতর ক্ষতি ছাড়াই ব্যবহার করা যায়, সেটিই বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গবেষকেরা অবশ্য জানিয়েছেন, তারা মানুষের মতো জটিল জীবকে সংক্রমিত করতে পারে এমন ভাইরাসকে প্রশিক্ষণ-ডেটা থেকে বাদ দিয়েছেন এবং শুধু ব্যাকটেরিওফাজ নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁদের দাবি, পুরো গবেষণা নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ল্যাবরেটরিতে পরিচালিত হয়েছে এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের এই সতর্কতার মধ্যেই এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় প্রযুক্তিটির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জেনারেটিভ এআই যখন শুধু লেখা বা ছবি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জেনেটিক কোড ও জৈবিক কাঠামো নকশার মতো জটিল কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তখন এর সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au