বাংলাদেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদর্শনীতে একাত্তরের চেয়ে চব্বিশকে বড় দেখানোর অভিযোগ

সমালোচনার পর সরানো হলো চিত্রকর্ম

  • 9:21 pm - August 10, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩১ বার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদর্শনীতে একাত্তরের চেয়ে চব্বিশকে বড় দেখানোর অভিযোগ। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি চিত্র প্রদর্শনীতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তুলনায় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বড় করে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচনার মুখে বিতর্কিত চিত্রকর্মটি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন চত্বরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: রংতুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে এ প্রদর্শনী মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এতে মোট ৮০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হওয়া চিত্রকর্মটিতে দেখা যায়, একটি মুষ্টিবদ্ধ হাত একটি দাঁড়িপাল্লা ধরে আছে। দাঁড়িপাল্লার এক পাশে লাল রঙে ‘৭১’ এবং অন্য পাশে কালচে রঙে ‘২৪’ লেখা। ‘২৪’ লেখা পাল্লাটি নিচের দিকে কিছুটা ঝুঁকে রয়েছে। এই উপস্থাপনার কারণে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তুলনায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঘটনাকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর অভিযোগ, একাত্তরের পরাজিত শক্তি দীর্ঘদিন ধরে দুটি ইতিহাসকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে এমন উপস্থাপন কীভাবে স্থান পেল, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এ ঘটনায় ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অসম্মান করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা হয়ে থাকলে এটি শুধু একটি শিল্পকর্মের বিকৃতি নয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিও অসম্মান।

তিনি বলেন, ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগের গৌরবময় অধ্যায়, যার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। একইভাবে ২০২৪ সালও বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় এবং তার যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন। তবে ১৯৭১ সালকে হেয় বা আড়াল করে ২০২৪ সালকে বড় করে দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সংঘটিত দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর পরিবর্তে উভয় সময়ের প্রেরণা ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

তবে বিতর্কিত চিত্রকর্মটির শিল্পী এটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শিল্পী বলেন, খালি চোখে দেখলে চিত্রকর্মটিতে ২০২৪ সালের তুলনায় ১৯৭১ সালের মর্যাদা কম দেখানো হয়েছে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এমন কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।

শিল্পীর ভাষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই একটি গোষ্ঠী ২০২৪ সালকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এই বিষয়টিই তিনি চিত্রকর্মে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লাটি ওজন মাপার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ‘২৪’-এর পাশে ছোট ছোট নুড়িপাথর দিয়ে ওই পাল্লাটিকে ভারী দেখানো হয়েছে। এটি একটি আলংকারিক উপস্থাপনা। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা কম-বেশি করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

চিত্রকর্মটি কীভাবে প্রদর্শনীর জন্য অনুমোদন পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, ডিনের অনুপস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি শুধু একটি চিঠিতে সই করেছেন। প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো চিত্রকর্মগুলো তিনি যাচাই করেননি বলেও জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল আলীম বলেন, তিনি বিষয়টি অনলাইনে কিছুটা দেখেছেন। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে জানার পর এ বিষয়ে কথা বলবেন।

তবে তিনি বলেন, ১৯৭১ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের লড়াই। অন্যদিকে ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই। দুটি ঘটনা কখনো এক হতে পারে না।

সমালোচনার পর সোমবার চিত্রকর্মটি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, প্রদর্শনীটি মূলত চারুকলা অনুষদের তত্ত্বাবধানে আয়োজন করা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব ছিল সিনেট ভবনে প্রদর্শনীর জায়গা নির্ধারণ করা। কোনো বিতর্কিত বিষয়কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রশ্রয় দেবে না।

চিত্রকর্মটি সরিয়ে নেওয়ার পরও প্রদর্শনীতে ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাকে কীভাবে শিল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করা উচিত, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে একটি বিষয়ে মিল রয়েছে, দুই সময়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্যকে আলাদা রেখে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এই শাখার আরও খবর

ঢাকায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-প্রধান পরাগ জৈন

মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যে ঢাকায় এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’-এর প্রধান পরাগ…

হরমুজ খুলতে মার্কিন শর্ত পূরণের দাবি ইরানের

মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান। তবে প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে…

বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান নরেন্দ্র মোদি: ভারতীয় হাইকমিশনার

মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি…

‘মৃত্যুর আগে একবার ছেলেকে দেখতে চাই’: প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিন্ময় দাসের অসুস্থ মায়ের আকুতি

মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- বাংলাদেশে কারাবন্দি হিন্দু ধর্মীয় নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে একবার দেখার সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন তাঁর অসুস্থ…

মিয়ানমারে সু চির নিঃশর্ত মুক্তির দাবি প্রত্যাখ্যান করল জান্তা সরকার

মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত প্রশাসন আটক সাবেক নেত্রী অং সান সু চির নিঃশর্ত মুক্তির জন্য আসিয়ানের নতুন করে জানানো দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে…

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান হলেন মোহসেন রেজাই

মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট:  ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসির সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au