বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান নরেন্দ্র মোদি: ভারতীয় হাইকমিশনার
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি…
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- বাংলাদেশে কারাবন্দি হিন্দু ধর্মীয় নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে একবার দেখার সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন তাঁর অসুস্থ মা। ক্যানসারে আক্রান্ত ওই বৃদ্ধা বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি বিছানায় শয্যাশায়ী।
সনাতন টিভিতে প্রচারিত একটি ভিডিওতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মাকে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ‘বাবা’ সম্বোধন করে জীবিত থাকা অবস্থায় একবার তাঁর ছেলেকে দেখার সুযোগ দেওয়ার আকুতি জানান। শেষ জীবনে ছেলেকে পাশে পাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া বাংলা ক্যাপশনে ওই নারীকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কারাগারে চিন্ময়
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা রয়েছে। পরে চট্টগ্রামের একটি আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, চট্টগ্রামে একটি সমাবেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপরে গেরুয়া পতাকা উত্তোলনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করা হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সমর্থকেরা মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা বলে দাবি করে আসছেন। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি বাংলাদেশের আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।
পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যাও বেড়েছে। দ্য ডেইলি স্টার ২০২৬ সালের মে মাসে এক প্রতিবেদনে জানায়, রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাসহ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাঁর একাধিক জামিন আবেদনও নাকচ হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কারাবন্দি থাকা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশ এবং তাঁর অনুসারীদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি তাঁর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন করে মানবিক মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর আবেদন মূলত রাজনৈতিক দাবি বা আইনি সিদ্ধান্তের পরিবর্তে একজন মায়ের শেষ ইচ্ছার প্রকাশ।
ক্যানসারে আক্রান্ত এই বৃদ্ধা জীবনের শেষ সময়ে ছেলেকে একবার দেখতে চান। সম্ভব হলে শেষ দিনগুলোতে ছেলেকে নিজের পাশে পাওয়ার আকুতিও জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তাঁর সরাসরি আবেদন এখন মানবিক বিবেচনায় সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। একজন প্রবীণ ও গুরুতর অসুস্থ মা তাঁর আটক ছেলের সঙ্গে দেখা করার যে আবেদন জানিয়েছেন, সরকার সেটি কীভাবে বিবেচনা করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিভিন্ন দাবিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস আলোচিত হয়ে ওঠেন। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর গ্রেপ্তার ও পরবর্তী কারাবাস বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনাতেও গুরুত্ব পায়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন। সরকার পরিবর্তনের পর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মামলায় নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর মুক্তি হয়নি এবং মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মামলাগুলো আদালতের বিচারাধীন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমেই হবে। তবে তাঁর মায়ের অসুস্থতা পুরো বিষয়টিকে একটি মানবিক প্রশ্নের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।
একদিকে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি ছেলে, অন্যদিকে ক্যানসারে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে দুর্বল মা। এমন পরিস্থিতিতে মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক কোনো উদ্যোগ নেবে কি না, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মায়ের বার্তা খুবই সরল: মৃত্যুর আগে তিনি একবার তাঁর ছেলেকে দেখতে চান। তাঁর এই আকুতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au