বৈশ্বিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র-ভারত অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ: সার্জিও গর
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট- ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।…
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট- ঢাকার সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় একটি তিনতলা বাড়ি ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। অভিযানে সাভার মডেল থানার পুলিশ সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চলাকালে বোমাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
হেমায়েতপুরের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় আবদুল জলিলের মালিকানাধীন বাড়িতে এ অভিযান চলছে। রাত পৌনে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম এসব তথ্য জানান।
ওসি সাইফুল আলম বলেন, ডিএমপির সিটিটিসির একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যরা অবস্থান করছে এবং তাদের কাছে বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে। পরে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে বোমাসহ বিস্ফোরকসদৃশ বিভিন্ন দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এরপর ওই ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল জলিলের বাড়িতে অভিযান শুরু করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তি গত ১ আগস্ট ওই বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। বাড়িটি ঘিরে রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। থানা-পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরাও বাড়িটির চারপাশে অবস্থান করছেন। আটক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির ভেতরে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক সম্পর্কে ওসি সাইফুল আলম বলেন, আটক করার সময় ওই ব্যক্তির কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি শক্তিশালী পাঁচটি পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে একই ধরনের আরও বেশ কয়েকটি বোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বাড়িটির মালিক আবদুল জলিলের মেয়ে ইলমা সাংবাদিকদের বলেন, আব্বাস আলী নামের একজনসহ আরও একজন বাড়িটি ভাড়া নিতে এসেছিলেন। পরে ২ আগস্ট তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়। তারা সম্ভবত ৩ আগস্ট রাত থেকে সেখানে থাকা শুরু করেন। তারা জানিয়েছিলেন, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে শিশুদের পড়াবেন। নিজেদের গাড়িচালক হিসেবেও পরিচয় দিয়েছিলেন তারা। পরিবার নিয়ে থাকবেন মনে করেই তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। ভেতরে এত কিছু রাখা হয়েছে, তা বাড়ির মালিকপক্ষ জানত না বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া বোমা ও অন্যান্য বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করতে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা কাজ করছেন। একই সঙ্গে বাড়ির ভেতরে আরও কোনো বিস্ফোরক, বোমা তৈরির সরঞ্জাম বা সংশ্লিষ্ট কেউ অবস্থান করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এর আগে গত ৩০ জুলাই সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদিদোকানের সামনে ফেলে যাওয়া একটি ভ্রমণব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
দক্ষিণ শ্যামপুরের এই অভিযানের ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাড়িটির আশপাশে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অভিযান শেষ হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া বোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্যের ধরন, আটক ব্যক্তির পরিচয় এবং তার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au