সাভারে মসজিদের মাঠ থেকে বোমাসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট: সাভারে ফের বোমাসদৃশ বস্তুসহ একটি প্রেশার কুকার উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠ থেকে এটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, সকালে মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ড্রামটির ভেতরে কাপড়চোপড়ের সঙ্গে একটি প্রেশার কুকার দেখতে পান তারা। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি ড্রামটি মাঠে রেখে যায়।
খবর পেয়ে ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমরান হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়দের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ইমরান হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে জানানো হয়েছে এবং তারা ঘটনাস্থলে আসছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, সকালে ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে দুষ্কৃতকারীরা এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রেশার কুকারের ভেতরে আসলে কী রয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগেও সাভারে প্রেশার কুকার উদ্ধার
এর আগে গত ৩১ জুলাই সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদি দোকানের বেঞ্চে রাখা ব্যাগের ভেতর থেকে বোমাসদৃশ বস্তুসহ একটি প্রেশার কুকার উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যায় ৩০ থেকে ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মুদি দোকানে এসে একটি ঠান্ডা পানীয় কেনার কথা বলে দোকানিকে ৫০০ টাকার নোট দেন। দোকানি খুচরা টাকা নেই জানালে ওই ব্যক্তি চলে যান। তবে ব্যাগটি দোকানে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে যান তিনি।
পরে ব্যাগের ভেতর থেকে প্রেশার কুকার ও বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়ার পর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ।