ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, তারেকের সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা
আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশের হয়ে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন…
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- ইরানের ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়ার মধ্যেই নতুন করে এই হুঁশিয়ারি দিল যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
পানামা সফরকালে সাংবাদিকদের হেগসেথ বলেন, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে জাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে বদলি করে অনির্দিষ্টকাল এই নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে পারবে মার্কিন নৌবাহিনী।
ইরানের ওপর অবরোধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস জাহাজ চলাচল ও বন্দর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আরও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আসছে
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও বৃহস্পতিবার ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে এমন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে, যা কোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরির ক্ষেত্রে এর আগে দেখা যায়নি।ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত তা তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারেনি।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা
জুনে যুদ্ধ বন্ধে একটি সম্ভাব্য চুক্তির উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান।
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হতো।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (ADNOC) দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম। ঘটনাটিকে ইরানের হামলা হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার।
হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে বারবার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে।
তেহরান জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মঙ্গলবার মাত্র আটটি জাহাজ এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করেছে। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত
জুনের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের জন্য ইরানের জাহাজ চলাচল ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ শিথিল করেছিল। পরে আবারও তা কার্যকর করা হয়।
এর ফলে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎসগুলো আরও সংকুচিত হয়েছে। যুদ্ধের সময় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে যে ক্ষতি হয়েছিল, নতুন অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এর আগে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
কমছে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ
ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) বুধবার জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্বে তেলের সরবরাহ প্রতিদিন ৪৩ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে।
এক মাস আগেও সংস্থাটি সরবরাহ কমার পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রতিদিন ৩৭ লাখ ব্যারেল।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে। এক সপ্তাহ ধরে দাম বাড়ার পর বিনিয়োগকারীরা এখন বিশ্বব্যাপী জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত দ্রুত বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছেন।
তবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরামকোর জাজান শোধনাগারে দুটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। কিছু অঞ্চলে অর্থনীতি মন্দার মধ্যেও ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাদের মতে, দ্রুত যুদ্ধের অবসান না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আগের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে রাজি হননি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
তিনি বলেন, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যা করা প্রয়োজন, সেটিই করছে।
সূত্র-রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au