মৃত্যুর ২০ বছর পর প্রকাশ্যে স্টিভ আরউইনের আবেগঘন শেষ বার্তা
মৃত্যুর ২০ বছর পর প্রকাশ্যে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ‘ক্রোকোডাইল হান্টার’ স্টিভ আরউইনের তাঁর দলের উদ্দেশে দেওয়া শেষ আবেগঘন বার্তা। কুমির নিয়ে গবেষণার শেষ অভিযানে যাওয়ার…
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ। একই সঙ্গে কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে সরকারের লোকসানের বোঝাও ভারী হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের যে হিসাব ধরা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে তা ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ফলে আর্থিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে সংস্থাটিতে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু তেল ও গ্যাসের বাড়তি দাম নয়, কয়লার দাম এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিও বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া কয়লার উত্তোলন কমিয়ে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিটির দামও বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে বেশি দামে জ্বালানি কিনে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করায় গত আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একইভাবে বাড়তি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে গত ছয় মাসে পেট্রোবাংলার লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তেল ও গ্যাস খাতেই মোট লোকসান হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের হিসাব যুক্ত হলে এই অঙ্ক আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের বাড়তি দামের কারণে চাপে পড়েছে পিডিবিও। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের প্রাক্কলন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লোকসান ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
বিশ্ববাজারে গত এক সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছায়। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে বাড়বে আমদানি ব্যয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ প্রতিবছর ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় দেড় কোটি টন কয়লা আমদানি করে। পিডিবি জানিয়েছে, গত বছর ইন্দোনেশিয়া কয়লার উত্তোলন প্রায় ২৫ শতাংশ কমিয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জাহাজভাড়াসহ পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। ফলে প্রতি টন কয়লার দাম ১১০ ডলার থেকে বেড়ে ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে।
পিডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত জুনে বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এতে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লোকসান কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই হিসাব আবারও বদলে যেতে পারে।
এর মধ্যে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে সর্বোচ্চ চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তুলনামূলক ব্যয়বহুল এই জ্বালানি ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরকার ও জনগণ উভয়কেই জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ থাকলেও আগামী কয়েক মাস বেশি দামে তেল ও এলএনজি কিনে শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখার প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি বলেন, শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় প্রয়োজন হলে সীমিত লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় আরও বাড়তে পারে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, সরকারের ভর্তুকি এবং পিডিবির আর্থিক চাপ আগামী মাসগুলোতে আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au