বিশ্ব

আলোচিত-সমালোচিত পাঁচ সিদ্ধান্ত

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম ১০০ দিন: কোন সিদ্ধান্তে লাভ, কোনটিতে বিতর্ক?

  • 3:19 am - August 19, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৮৮ বার
মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট- ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ১০০ দিনে একাধিক প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের কিছু প্রশংসা পেয়েছে, আবার কয়েকটি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনা, পুরোনো আলোচিত মামলার তদন্তে গতি, অবৈধ দখল উচ্ছেদে বুলডোজার ব্যবহার এবং রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বয়ান বদলের উদ্যোগ এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এসব পদক্ষেপকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, জনকল্যাণ, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে বিরোধীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এসব সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সম্ভাব্য গতিপথেরও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে অবশ্য বলেছেন, এই সময়ের ভিত্তিতে নিজের নম্বর দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য, এই সময়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সাংবিধানিক দায়িত্ব, জনকল্যাণ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এক বছর পূর্ণ হলে তিনি জনগণের কাছ থেকে নিজের কাজের মূল্যায়ন নিতে চান বলেও জানিয়েছেন।

কলকাতার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক উজ্জ্বল রায়ের মতে, কোনো সরকারের ১০০ দিনের কাজ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তবে নতুন সরকারের প্রতি যাঁরা আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশার জায়গা থেকে এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রথম ১০০ দিনের সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন দিকে যেতে পারে, তারও কিছুটা ধারণা দিতে পারে।

১. ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। ক্ষমতায় আসার পর সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি বাস্তবায়নের কথা জানায়।

এই নীতির আওতায় কথিত অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পাশাপাশি সীমান্তের যেসব এলাকায় এখনো কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেসব এলাকায় বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তরের কাজও শুরু হয়েছে।

জুন মাসে বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ইতোমধ্যে ১০ হাজার কথিত অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য ছিল, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

তবে এই নীতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময় যাঁদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্তের দিকে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে চাপের মুখে কয়েকজনকে ভারতে ফিরিয়ে আনার ঘটনাও সামনে এসেছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হলে তা নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসনের প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের যুক্তি, অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

‘ল্যান্ড জিহাদ’ ঠেকাতে নতুন আইন চান শুভেন্দু, উঠছে নানা প্রশ্ন।ছবিঃ সংগৃহীত

২. লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে অন্নপূর্ণা যোজনা

পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকারের অন্যতম আলোচিত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। নারীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এই প্রকল্পকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম সফল রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

বিজেপি নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতায় এলে এই আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। সরকার গঠনের পর প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ করা হয়।

তবে নতুন ব্যবস্থায় উপভোক্তা নির্বাচনে বেশ কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি, পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লাখ টাকার বেশি কিংবা নির্দিষ্ট পরিমাণ জমির মালিকানা থাকলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে নিয়ম করা হয়েছে।

সরকারের যুক্তি, আগের প্রকল্পে প্রকৃত উপকারভোগীদের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বা অযোগ্য ব্যক্তিরাও সুবিধা পেয়েছেন। এমনকি পুরুষ ও মৃত ব্যক্তির নামেও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ছিল। তাই নতুন করে নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ আবেদন যাচাই করে ১৭ লাখ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। ২০ আগস্টের মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লাখ উপভোক্তার হিসাবে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আরও কিছু আবেদন যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

তবে তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ না হলে নতুন সরকারের জন্য তা রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

তবে অন্যদিকে অযোগ্য বা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হলে সরকারের ব্যয় কমবে এবং প্রকৃত দরিদ্র নারীরা বেশি উপকৃত হবেন বলেও মত রয়েছে।

৩. পুরোনো আলোচিত মামলার তদন্তে গতি

নতুন সরকারের আরেকটি আলোচিত উদ্যোগ হলো আগের সরকারের সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি বহুল আলোচিত মামলা নতুন করে সামনে আনা।

কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যা, শিক্ষক ও সমাজকর্মী বরুণ বিশ্বাস হত্যা এবং আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনায় তদন্তে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে সরকার।

বিশেষ করে আরজি কর কাণ্ড পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছিল। ওই ঘটনার বিচার দাবিতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল। আন্দোলনের প্রভাব দেশের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই মামলার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

সরকারের বক্তব্য, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব বা তদন্তে গাফিলতির কারণে যেসব ঘটনা সঠিকভাবে এগোয়নি, সেগুলোর সত্য উদ্‌ঘাটন প্রয়োজন।

তবে এখানেও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, পুরোনো মামলার পুনঃতদন্ত কতটা বিচার নিশ্চিত করার জন্য আর কতটা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশল, সেটি ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক উজ্জ্বল রায়ের মতে, আরজি করের তদন্তে গতি আনা বিজেপি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এই ঘটনাকে ঘিরেই তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও বিচার কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই মূল বিষয়।

শুভেন্দু অধিকারী। ছবি : সংগৃহীত

৪. উচ্ছেদ অভিযান ও বুলডোজার ব্যবহার

অবৈধ দখলদারি, বেআইনি নির্মাণ ও সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে অভিযানও নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অন্যতম আলোচিত পদক্ষেপ।

কলকাতা, হাওড়া এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত, রাস্তা ও সরকারি জমি দখল করে থাকা দোকান, স্টল এবং অন্যান্য স্থাপনা সরানোর অভিযান শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজারও ব্যবহার করা হয়েছে।

সরকারের যুক্তি, ফুটপাত পথচারীদের জন্য। রাস্তা ও সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা বা স্থাপনা তৈরি করা আইনসিদ্ধ নয়। এসব দখল উচ্ছেদের মাধ্যমে যানজট কমানো এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করাই অভিযানের লক্ষ্য।

তবে এই অভিযানের বিরোধিতাও হয়েছে। হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, উচ্ছেদের ফলে তারা জীবিকা হারাচ্ছেন। পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হলে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদের প্রয়োজন থাকলেও এর সঙ্গে পুনর্বাসনের নীতি যুক্ত করা জরুরি। অন্যথায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি জনস্বার্থের বদলে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে।

অমিত শাহ’র সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী। ছবিঃ সংগৃহীত

৫. নাম পরিবর্তন ও নতুন রাজনৈতিক বয়ান

নতুন সরকারের আরেকটি আলোচিত দিক হলো বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়কের নাম পরিবর্তন এবং বাংলার ইতিহাসে বিজেপির পছন্দের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাগুলোকে সামনে আনার উদ্যোগ।

কলকাতার ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’-এর নাম পরিবর্তন করে গোপাল মুখার্জি রোড করার ঘোষণা এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। ১৯৪৬ সালের কলকাতার ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ কারণে তাঁর ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসে বিতর্ক রয়েছে।

তবে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা হয়, কারণ সংশ্লিষ্ট সড়কটি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে নয়, তাঁর আত্মীয় ও শিক্ষাবিদ হাসান সোহরাওয়ার্দীর নামে রাখা হয়েছিল বলে পরে বিষয়টি সামনে আসে।

অন্যদিকে বিজেপি বাংলার রাজনীতিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর নামে রাস্তা ও স্থাপনার নামকরণ এবং মূর্তি স্থাপনের পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে।

সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে বিজেপির কয়েকজন নেতার মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ শুধু নাম পরিবর্তনের রাজনীতি নয়। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিচয়কে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা থাকতে পারে।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাদ মাহমুদের মতে, রাস্তার নাম পরিবর্তন বা কোনো স্থাপনায় নির্দিষ্ট রং ব্যবহার করা বাহ্যিক বিষয়। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নতুন সরকার কী ধরনের রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করছে এবং বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করছে।

প্রথম ১০০ দিনের বার্তা কী?

প্রথম ১০০ দিনের পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করলে নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের কয়েকটি দিক স্পষ্ট হয়। জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, কল্যাণমূলক প্রকল্পে যাচাই-বাছাই, পুরোনো মামলার তদন্ত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বাংলার ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিচয়কে নতুনভাবে তুলে ধরা এর মধ্যে অন্যতম।

সরকার এসব পদক্ষেপকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করছে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, এসব উদ্যোগের বাস্তব ফল কতটা সাধারণ মানুষের জীবনে পড়বে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কী হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০ দিন দিয়ে কোনো সরকারের সামগ্রিক সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে এই সময়ের সিদ্ধান্তগুলো একটি সরকারের রাজনৈতিক দর্শন, অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

ফলে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নয়। বরং এসব সিদ্ধান্ত আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, প্রশাসন, সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এই শাখার আরও খবর

মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন

সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…

বাংলাদেশে পানির লবণাক্ততা: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস ও নদীপথে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ…

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ঢাকায় উদযাপিত হলো জন্মাষ্টমী

যথাযোগ্য মর্যাদায় হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি, শুভ জন্মাষ্টমী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ…

আরজি করের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা: সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও তৃণমূল…

ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, তারেকের সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশের হয়ে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন…

বিএনপি নেতাদের অভিনন্দন জানালেন ৩ উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au