রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।
নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার ছিলেন।
ভোটগ্রহণের পর সংসদ কক্ষেই প্রকাশ্যে ব্যালট গণনা করা হয়। গণনা শেষে সিইসি ফলাফল ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ব্যালটে ভোট দেন। ভোট দেওয়ার সময় প্রত্যেক সংসদ সদস্য ব্যালটে নিজের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেন।
সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্য সংসদ সদস্যরা ভোট দেন।
ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় সংসদ কক্ষে নিজের আসনে বসে পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর পাশের আসনে ছিলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁদের পাশে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী সংসদ কক্ষে অবস্থানকালে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।
বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে নিজের কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও সঙ্গে নিয়ে যান।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুটি প্রার্থী থাকায় সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হয়। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবারও এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হলো।
এর আগে ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী থাকায় সংসদে ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি।
এবার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করে।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন দলটি এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানান, জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে সিদ্ধান্তে ঐকমত্য হয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসার অভিযোগে তাঁদের দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
চিফ হুইপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর এখন তাঁর শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল এক নজরে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ২৫৫ ভোট
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ: ৮৮ ভোট
মোট ভোটার: ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য