জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের পক্ষে রাজনৈতিক ঐকমত্য চান নুরুল হক
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান…
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- নওগাঁর ধামইরহাটে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত নারী বাড়িতে গরু পালন ও দুধ বিক্রির কাজ করতেন। দুধ বিক্রির সূত্রে ধামইরহাট সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারী বাবুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ওই গৃহবধূকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন বাবুল। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলার আগ্রাদ্বিগুণ ইউনিয়নের তালপুকুর মাহমুদপুর গ্রামের একটি আমবাগানে। সেখানে বাবুলের তিন সহযোগীসহ তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই আমবাগান থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে বাবুল হোসেন ও তারেক রহমান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তারেকের বয়স ২১ বছর।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, নিহত গৃহবধূর স্বামী ও ছেলে কুমিল্লায় থাকেন। তিনি বাড়ির সংসার দেখাশোনার পাশাপাশি গরু পালন করতেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুধ বিক্রি করতেন। দুধ বিক্রির সময় সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাবুল বিয়ের আশ্বাস দেওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে ওই নারী বাড়ি থেকে বের হন।
পুলিশের দাবি, বাবুল তাঁর এক সহযোগীকে শাহপুর মোড়ে পাঠান ওই নারীকে নিয়ে আসার জন্য। সেখান থেকে তাঁকে রাতের দিকে আগ্রাদ্বিগুণ বাজারে নেওয়া হয়। পরে বাবুল সেখানে আসেন। এরপর মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে তাঁরা তালপুকুর মাহমুদপুর গ্রামের ভলকাডাঙ্গা মাঠের একটি আমবাগানে যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বাবুলের নির্দেশে তারেক রহমান ও আরেক সহযোগী ওই নারীর গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে টান দেন। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে হত্যার ঘটনা আড়াল করতে তাঁরা আশপাশ থেকে খড়খুটো সংগ্রহ করেন এবং মরদেহে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
ঘটনার পর শুরুতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের কাছে উল্লেখযোগ্য কোনো সূত্র ছিল না। পরে তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয়ভাবে তদন্ত ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কয়েকজনকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতে পুলিশের একটি দল ধামইরহাট উপজেলার মড়ইল গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাবুল হোসেনকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রামের বাসিন্দা তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au