পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানতে চান, ‘কে নিউজ করেছে, কার এত জ্বালা?’
সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকরা প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব তিনি ত্যাগ করেছেন কি না। জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বা দেশের প্রতি তাঁর অবস্থান নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকার কথা নয়।
এরপর এক সাংবাদিক দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রতিমন্ত্রী জানতে চান, বিষয়টি নিয়ে কে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এক সাংবাদিক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এ নিয়ে সংবাদও হয়েছে।
তখন হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কে নিউজ করছে এটা?’ পরে তিনি বলেন, ‘কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না? তার জ্বালা কেন হচ্ছে? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার?’
তবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করেছেন কি না, এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি প্রতিমন্ত্রী।
গত শুক্রবার বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্তির সময় মন্ত্রিসভায় নতুন করে পাঁচজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। তাঁদের মধ্যে হুমায়ুন কবির টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
হুমায়ুন কবির শৈশব থেকেই যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠেন এবং দেশটির লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির একাধিক নেতা তাঁকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, তা তাঁরা নিশ্চিত করতে পারেননি।
বাংলাদেশ সরকারের কয়েকটি সূত্রও জানিয়েছে, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন, এমন তথ্য তাদের কাছে নেই।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নন এমন সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ ব্যক্তিকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায়। তবে তাঁদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হন না।
এ কারণে হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের একপর্যায়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দেশের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়া মানুষ, দেশপ্রেমিক মানুষ যারা আছে, দেশের পক্ষে যারা অবস্থান নেয়, মিডিয়া, দেশবাসী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এখন আমরা সবাই মিলে ইনশা আল্লাহ এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’