পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তার রদবদল
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি),…
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৌলিক অধিকার, চিকিৎসাসেবা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডস্মিথ। ইমরানকে দীর্ঘদিন ধরে একাকী বন্দিত্বে রাখা এবং পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে যুক্তরাজ্যের প্রকাশ্য ও স্পষ্ট অবস্থান দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেমাইমা বলেন, পাকিস্তান সরকারকে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ইমরানের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা, পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা এবং দীর্ঘদিনের একাকী বন্দিত্বের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি।
গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসা বোর্ডের মাধ্যমে তার চিকিৎসার কথাও বলা হয়। তবে তাকে শিফা হাসপাতালে না নিয়ে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে আবার আদিয়ালা কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত শনিবার দলটির পক্ষ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার পিটিশন দায়ের করা হয়।
জেমাইমা দাবি করেন, ইমরান প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে একাকী বন্দিত্বে রয়েছেন এবং প্রায় ১০ মাস ধরে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। আইনজীবী ও চিকিৎসকদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জাতিসংঘের নেলসন ম্যান্ডেলা বিধির কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই বিধি অনুযায়ী টানা ১৫ দিনের বেশি একাকী বন্দিত্ব নিষিদ্ধ। তার ভাষ্য, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা, ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পরিবারের নিয়মিত দেখা করার সুযোগ এবং দুই ছেলে সুলায়মান খান ও কাসিম খানের সঙ্গে সপ্তাহে দুবার ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
জেমাইমা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে বলেন, যুক্তরাজ্য আর কতদিন নীরব থাকবে। তার মতে, বিষয়টি এখন আর শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তাই যুক্তরাজ্যের উচিত প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া।
ইমরানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন জেমাইমা। তিনি জানান, ইমরান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং কয়েক বছর ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন। পাকিস্তানে ক্যানসার হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মতো জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের দুই ছেলে সুলায়মান খান ও কাসিম খানের পক্ষ থেকেও যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানান জেমাইমা। তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলেদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি, তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি এবং পাকিস্তান সরকারের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে তাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাবার সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলার সুযোগও তাদের দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
জেমাইমা আরও বলেন, সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, তার দুই ছেলে বাবাকে দেখতে পাকিস্তানে গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও যুক্তরাজ্য হস্তক্ষেপ করবে না।
ইমরানের ছেলেরা জানিয়েছেন, ২০২২ সালের নভেম্বরের পর থেকে তারা বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাননি। আগস্টের শুরুতে কাসিম খান ও সুলায়মান খান সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় তাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, কাসিম ও সুলায়মানের বিদেশি পাকিস্তানিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে, যার মাধ্যমে ভিসা ছাড়াই পাকিস্তানে প্রবেশ করা যায়। তবে দুই ভাইয়ের বক্তব্য, তাদের পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তা নবায়ন করা হয়নি।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় তিনি আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত বিক্ষোভের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে গত ২৬ মার্চ জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনেও কাসিম খান তার বাবার মুক্তি ও পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সুত্রঃ এক্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au