প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পর নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার করেছে চীন।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬আগষ্ট- ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। ফলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর ইরান ও দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ, ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এর মাধ্যমে ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির সরকারের অর্থের উৎসগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করা হবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, বেইজিং তথাকথিত ‘অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার’ বিরোধী। চীন ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাই এই সহযোগিতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাধা দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লিন জিয়ান আরও বলেন, নিজেদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় চীন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বর্তমানে চীন হওয়ায় নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে যাচ্ছে। ফলে বেইজিং যদি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি মেনে না নেয়, তাহলে ইরানের তেল রপ্তানিতে ওয়াশিংটনের নতুন পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।
তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা কোনো দেশই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থেকে পুরোপুরি নিরাপদ নয়। চীনা ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে চীনের পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। কারণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিরল মৃত্তিকা ও অন্যান্য কৌশলগত খনিজের বড় অংশ চীন প্রক্রিয়াজাত করে। এসব খনিজ বৈদ্যুতিক গাড়ি, সামরিক সরঞ্জাম, সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে চীন পাল্টা বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিলে যুক্তরাষ্ট্রও চাপের মুখে পড়তে পারে।
ইরানও নতুন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরানের দুই বছরের পরিকল্পনা রয়েছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্য আরেকটি পরাজয় বয়ে আনবে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা ভারত ও রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো দেশ দুটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন যদি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ কার্যকর করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধও নতুন মাত্রা পেতে পারে।
সুত্রঃ বিবিসি