চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। এ জন্য বহুমুখী যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান।
মঙ্গলবার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাহেদুর রহমান জানান, চতুর্থ প্রজন্মের বহুমুখী যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং চালকবিহীন আকাশযান বা ইউএভি ব্যবস্থা কেনার প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান থাকলে চলতি অর্থবছরেই এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে আগামী অর্থবছরে কেনাকাটা করা হবে।
চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনার পেছনে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় এসব যুদ্ধবিমানের কথিত কার্যকারিতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান জাহেদুর রহমান। তিনি দাবি করেন, ওই সংঘাতে ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছিল। তার মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চীনের এই যুদ্ধবিমানের সক্ষমতার বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া গেছে।
জাহেদুর রহমান আরও বলেন, রাফাল ও ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো একই শ্রেণির যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনের তৈরি যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলক কম। ফলে বাংলাদেশের জন্য এগুলো কেনা অর্থনৈতিকভাবেও সুবিধাজনক হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
চীনের যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনার বিষয়টি প্রথম সামনে আসে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। সে সময় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রায় ২২০ কোটি ডলার ব্যয়ে চীনের তৈরি ২০টি যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে প্রায় ২১২টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি যুদ্ধবিমান। এসব যুদ্ধবিমানের ৩৬টি চীনের তৈরি এফ-৭ সিরিজের। নতুন জে-১০সিই যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।