দুই আসামির ডোপ টেস্ট হবে, হত্যাকাণ্ডের সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে পুলিশ
মেলবোর্ন ২৬ আগষ্ট- রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও…
মেলবোর্ন ২৬ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজনীতিতে লেবার ও কোয়ালিশনের আধিপত্যই ছিল প্রায় অলিখিত নিয়ম। তবে ভিক্টোরিয়ায় ওয়ান নেশনের জনসমর্থন বৃদ্ধির ফলে সেই চিরাচরিত সমীকরণ এবার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ভিক্টোরিয়া রাজ্য নির্বাচনের আর প্রায় ১৪ সপ্তাহ বাকি। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে লেবার, কোয়ালিশন ও ওয়ান নেশন—তিনটি দলের প্রাথমিক ভোটের হার প্রায় ২৫ শতাংশের কাছাকাছি দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জরিপ পরিচালনাকারীদের মতে, এর ফলে রাজ্যটিতে নজিরবিহীন এক ‘ত্রিমুখী লড়াইয়ের’ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি ঋণের বোঝা, অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ—এসব বিষয় ওয়ান নেশনের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। অভিবাসনের সঙ্গে আবাসন, অবকাঠামো ও জীবনযাত্রার মানের মতো বিষয়গুলোকে মিলিয়ে দেখার প্রবণতাও দলটির সমর্থন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
অ্যাকসেন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২২ সালের ভিক্টোরিয়া নির্বাচনে লেবারকে ভোট দেওয়া উত্তরদাতাদের প্রায় অর্ধেক এবার ভিন্নভাবে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। তাদের মধ্যে ১১ শতাংশ জেস উইলসনের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনকে এবং ১৩ শতাংশ ওয়ান নেশনকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন।
জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোটারদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ মনে করেন, নতুন প্রিমিয়ার বেন ক্যারল ও তার সরকার এই চাপ মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি সক্ষম।
তবে ভিক্টোরিয়ার জন্য এখনো বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ না করেও ওয়ান নেশন কেন এত সমর্থন পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো ড. এমিলি ফোলি বলেন, “এটি সত্যিই একটি ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ওয়ান নেশন এখনো ভিক্টোরিয়াকেন্দ্রিক নীতি প্রকাশ করেনি এবং ধীরে ধীরে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু ভোটারদের একটি অংশের কাছে সেটি হয়তো খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
তার মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা লেবার সরকারকে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়, দুর্নীতিসংক্রান্ত বিতর্ক এবং সরকারি অর্থব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ যুক্ত হয়েছে।
ওয়ান নেশন সম্প্রতি ভিক্টোরিয়ার কয়েকটি আসনে নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এএফএল রাকম্যান জন বার্নস। জিলং ও এসেনডনের হয়ে ২০২টি ম্যাচ খেলা বার্নস বারবার মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে স্থায়ী মস্তিষ্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। তিনি এসেনডন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মারে প্লেইন্স আসনে দলটির প্রার্থী হয়েছেন গার্নার স্মিথ। নারীর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ নিয়ে অতীতে করা একটি মন্তব্যের কারণে তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সমালোচনার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার আক্রমণাত্মক বক্তব্যও বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
বারউইক আসনে সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা ব্র্যাড ব্যাটিনের বিরুদ্ধে ওয়ান নেশনের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন হেয়ারড্রেসার মাইকেল পিয়াস্ত্রানো। ২০২২ সালে লিবারেল পার্টির প্রার্থী থাকার সময় কোভিড মহামারি মোকাবিলায় সাবেক প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজের ভূমিকা নিয়ে করা মন্তব্যের কারণে তিনিও বিতর্কিত হয়েছিলেন।
ওয়ান নেশনের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় দলটির কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এবং আপত্তিকর মন্তব্যের নজির সামনে এসেছে। এসব ঘটনা দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা ও প্রার্থী যাচাইয়ের মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ড. ফোলির মতে, ওয়ান নেশনের উত্থানের পেছনে শ্রমজীবী ভোটারদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভিক্টোরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বাইরের শহরতলিগুলোতে ঐতিহ্যগতভাবে লেবারকে সমর্থন করা অনেক পরিবার এখন দলটির ওপর ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
“অনেক শ্রমজীবী পরিবার রয়েছে, যাদের বাবা-মা ও দাদা-দাদিরাও লেবার ভোটার ছিলেন। কিন্তু সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিকভাবে তারা কখনোই কোয়ালিশনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করেননি,” তিনি বলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঐতিহ্যগত শ্রমজীবী পরিবার এবং প্রথম বা দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদের একটি অংশ কোয়ালিশনের পরিবর্তে ওয়ান নেশনকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। দলটিও নিজেদের শ্রমজীবী মানুষের নতুন রাজনৈতিক প্রতিনিধিরূপে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।
গত মার্চে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল লেবার। সেখানে ওয়ান নেশনের দিকে ভোটের কিছুটা পরিবর্তন ঘটলেও প্রিমিয়ার পিটার মালিনাউস্কাসের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা লেবারকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিক্টোরিয়ায় লেবারের অবস্থা ভিন্ন। সাবেক প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ—বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়—ভোটারদের মধ্যে তীব্র বিভাজন তৈরি করেছিলেন। তবে কোয়ালিশনের নেতৃত্বের অস্থিতিশীলতার সুযোগে ২০২২ সালে তিনি লেবারকে বড় জয় এনে দিয়েছিলেন।
এবার পরিস্থিতি বদলেছে। জেস উইলসনের নেতৃত্বে লিবারেল পার্টি দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাটিয়ে বিকল্প সরকার হিসেবে নিজেদের উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। সরকারি ব্যয় ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় সামনে এনে ভোটারদের আস্থা অর্জনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে, ওয়ান নেশনের বর্তমান সমর্থন নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বজায় থাকবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। ড. ফোলির ধারণা, দলটি উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী সাফল্য পেতে পারে; তবে দীর্ঘ মেয়াদে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা এবং সাংগঠনিকভাবে তা কাজে লাগানোর সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তার ভাষায়, “ওয়ান নেশন দীর্ঘ মেয়াদে এই সমর্থন ধরে রাখতে পারবে কি না—সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।”
তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপের চিত্র বলছে, আগামী ভিক্টোরিয়া নির্বাচন আর শুধু লেবার ও কোয়ালিশনের প্রচলিত দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ওয়ান নেশনের উত্থান রাজ্যটির রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au