রংপুরে একসঙ্গে হত্যার শিকার হয়েছেন এক পরিবারের চারজন। গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর পারিবারিক ছবিটি এখন শুধুই স্মৃতিছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ২৬ আগষ্ট- রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের বন্ধু সীমান্ত দাস আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া বক্তব্য আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সঙ্গে মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে সীমান্ত তাঁর জবানবন্দি দেন। মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাক্ষী হিসেবে সীমান্তের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। বাবার সঙ্গে আদালতে এসে তিনি জবানবন্দি দেন। সীমান্তের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের দেওয়া স্বীকারোক্তির মিল পাওয়া গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে আসামিরা জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন। সীমান্তও আদালতে একই তথ্য দিয়েছেন।
এর আগে রোববার দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের রাতে সীমান্তের বাড়িতে গিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করেছিলেন।
এদিকে দুই আসামি মাদকাসক্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তাঁদের ডোপ টেস্ট করানোর উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, সোমবার সকালে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ডোপ টেস্টের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। বুধবার তাঁদের ডোপ টেস্টের জন্য পাঠানোর কথা রয়েছে।
হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা হবে। এ মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই পুলিশের মূল লক্ষ্য।
গত রোববার নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে মামলাটির তদন্ত করছিলেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি। পরে সোমবার রাতে মামলার তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।