রংপুরে একই সনাতনী পরিবারের চার সদস্য হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক, ২৬ আগষ্ট: রংপুরে একই সনাতনী পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নিউইয়র্কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা নিহত পরিবারের ছবি, প্রতিবাদী পোস্টার ও ব্যানার হাতে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান এবং ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন।
বিক্ষোভকারীদের বহন করা প্রধান ব্যানারে রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়। কর্মসূচিটি আয়োজন করে ইউনাইটেড হিন্দুস অব ইউএসএ ইনকরপোরেটেড।

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক। তারা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্ঘাটনে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণনির্ভর তদন্তের দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার বা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা উদ্দেশ্য ছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। তদন্তের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ রাখার পাশাপাশি নিহত পরিবারের জন্য বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
প্রতিবাদকারীরা বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব নাগরিকের জন্য আইনের সমান সুরক্ষা কার্যকর করার দাবিও জানান। তারা বলেন, গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশে-বিদেশে প্রতিবাদ ও জনমত গঠনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাঁদের দুই সন্তান আগামী ও আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওটিএন বাংলার অনুসন্ধানে স্বজন ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের কাছ থেকে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহের ভয়াবহতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় আগামী চক্রবর্তীর শরীরের বেশ কিছু অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর চোখ ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, হত্যাকান্ডের শিকার আগামী চক্রবর্তীর লাশের নীচের অর্ধেক অংশ বিবস্ত্র অবস্থায় ছিল। তার দুই চোখ উপরে ফেলা হয়েছিল। পাশাপাশি তার মুখ ও প্রাইভেট পার্টগুলো ঝলসানো ছিল। নিহতের মধ্যে প্রায় সবাইকেই বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।
লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ স্বজন ও প্রতিবেশিদের লাশের কাছে যেতে দেয়নি। এরপর লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তরের সময় লাশের অবস্থা দেখে আতংকিত হয়ে পড়েন স্বজনরা।
আরো পড়ুন