ইলন মাস্কের কার্সরের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করছে ওপেনএআই
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের অধীনে থাকা এআই-সহায়ক কোডিং প্ল্যাটফর্ম কার্সরের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কার্সরকে এআই…
জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনার অবসান হয়েছে। বক্তব্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন হাসনাত। তাঁর দুঃখপ্রকাশের পর কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ তাদের ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে।
কি ঘটেছিল?
ঘটনার সূত্রপাত জাতীয় সংসদের গত বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে। প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কতটা ভূমিকা রাখতে পেরেছেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
হাসনাতের বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেমদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। শুক্রবার রাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। রাত পৌনে ১২টার দিকে জামিয়া ইউনিসিয়া মাদ্রাসা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশ নেন বলে জানা গেছে। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর মধ্যেই শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখিত।
তবে নিজের বক্তব্যের মূল অবস্থান থেকে সরে যাননি এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো বলে যে মন্তব্য করেছেন, তার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের একটি কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনাটির ব্যাখ্যাও দেন হাসনাত। তাঁর দাবি, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তবতা তার চেয়ে ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির পর পরিস্থিতির অবনতি হয় এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন।
হাসনাতের ভাষ্য, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি, বরং শুধু শব্দ কমাতে বলেছিল। তাই এ ঘটনাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার উদাহরণ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়।
নৌকাবাইচের প্রসঙ্গেও নিজের ভুল স্বীকার করেন হাসনাত। তিনি জানান, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় সিলেটের নৌকাবাইচের ঘটনাকে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন। এই তথ্যগত ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং দুঃখিত।
হাসনাত বলেন, মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যমে সেটি কীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তা নিয়ে সংসদে বিস্তারিত কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নের জন্য নির্ধারিত সময় সীমিত থাকায় বিস্তারিত বলার সুযোগ পাননি।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসনাত আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন এমন একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছে, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কেউ নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। তাঁর মতে, দেশে মসজিদ, মন্দির, গান, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসবসহ বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সহাবস্থান থাকা উচিত।
তিনি বলেন, যে যার পছন্দ অনুযায়ী কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেবে অথবা অংশ নেবে না। সরকারের দায়িত্ব হলো, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে তিনি মূলত এই বিষয়টিই তুলে ধরতে চেয়েছেন বলে জানান।
হাসনাতের দুঃখপ্রকাশের পর শনিবার দুপুরে এনসিপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আলোচনা হয়। এরপর সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করায় তাদের ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে এনসিপির কর্মসূচিতে আর কোনো বাধা থাকবে না বলেও জানায় তারা।
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ কারণে তাঁদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে এর মধ্যেই এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির একটি কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হওয়ার কথা ছিল। এর বিপরীতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ একই স্থানে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।
পরে জেলা প্রশাসন জানায়, শিল্পকলা একাডেমিতে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, এনসিপি একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান করার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু সেটি রাজনৈতিক সমাবেশ হবে বলে জানানো হয়নি। শিল্পকলা একাডেমিতে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর দুঃখপ্রকাশের মধ্য দিয়ে আপাতত কওমি ছাত্রদের সঙ্গে এনসিপির তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমেছে। তবে ঘটনাটি দেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন মত ও বিশ্বাসের মানুষের সহাবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au