সীমান্তে মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশে আটক আসামের যুবক।
ভারতের আসাম রাজ্যের শ্রীভূমি জেলার ৩৫ বছর বয়সী এক যুবককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ এবং মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক যুবকের নাম বলাই নমঃশূদ্র। তিনি শ্রীভূমি জেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বিজিবির দাবি, গত ২৭ আগস্ট মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কুমারশাইল সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বলাই নমঃশূদ্রকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দশমিক ২২ বোরের দুই রাউন্ড গুলি এবং ৫০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
তবে বলাইয়ের পরিবারের দাবি, তিনি প্রতিদিন সীমান্তের কাছে মাছ ধরতে যেতেন। তার স্ত্রী মমতা নমঃশূদ্র জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগের দিন জালে পেতে রাখা মাছ সংগ্রহ করতে বাড়ি থেকে বের হন বলাই। এরপর তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
মমতা জানান, পরে বাংলাদেশ থেকে এক ব্যক্তি তাকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে বলেন, বলাই অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের কারণে আটক হয়েছেন। তাকে ফেরত পাঠানোর প্রাথমিক প্রক্রিয়ার জন্য ভোটার পরিচয়পত্র, আধার কার্ড ও সম্ভব হলে পাসপোর্টের কপি প্রয়োজন বলে ওই ব্যক্তি জানান। এরপর তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেন।
শ্রীভূমির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ত্রিনয়ন ভূঁইয়া জানান, বলাই নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ এলাকায় গিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে ঘটনাস্থল সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।
গোবিন্দপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় আট বছর আগেও একই গ্রামের বিনন্দ নমঃশূদ্র নামে আরেক ব্যক্তিকে বিজিবি আটক করেছিল। তিনি প্রায় এক বছর বাংলাদেশে আটক থাকার পর মুক্তি পান।
বলাই নমঃশূদ্রের আটকের ঘটনায় একদিকে তার পরিবারের দাবি ও অন্যদিকে বিজিবির মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তার বাংলাদেশে প্রবেশের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং পরিবারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বিজিবির অভিযোগের সামঞ্জস্য নিয়েও তদন্ত চলছে।