মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে, বাড়তে পারে দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে চলতি বছর প্রায় ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং দেশে দারিদ্র্যের হারও আরও বাড়তে পারে…
বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব বাড়ছে দাবি করে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় ভারতকে নতুন কৌশল নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট। ২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে লেখক নিনাদ ডি. শেঠ বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ইসলামপন্থী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। লেখকের দাবি, এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে সন্দেহ ও দূরত্বের মনোভাব দেখা গেছে। অন্যদিকে ভারতও ভিসা কার্যক্রমে পরিবর্তন, বাণিজ্যিক সুবিধা সীমিত করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের নীতি পুনর্বিবেচনা করেছে।
নিনাদ ডি. শেঠের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের অর্থনীতির তৈরি পোশাকনির্ভরতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির বড় একটি অংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে এবং এ খাতে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ সরাসরি কর্মরত। ফলে ভারতের বাজার ও বাণিজ্যনীতিতে পরিবর্তন এলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে লেখক মনে করেন।
ভারতের নিজস্ব বস্ত্র ও পোশাক শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে উল্লেখ করে নিবন্ধে বলা হয়, ভবিষ্যতে এই খাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। লেখকের মতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজারে ভারতের অংশ বাড়ানোর মাধ্যমে নয়াদিল্লি অর্থনৈতিকভাবেও ঢাকার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, আনসার আল ইসলাম, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, হিজবুত তাহরীর এবং হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
লেখকের দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে যেসব সংগঠন তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল, তাদের কয়েকটি বর্তমানে প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বেশি সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম দৃশ্যমান হওয়ার বিষয়টি নিবন্ধে গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এসব সংগঠন সম্পর্কে নিবন্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ মূলত লেখকের বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন সূত্রের দাবির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এগুলোকে বাংলাদেশের সরকারি অবস্থান বা সর্বজনস্বীকৃত তথ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলের নেতা তারেক রহমানের অবস্থানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের মতে, বিএনপিকে একদিকে ইসলামপন্থী ভোট ও সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে বাস্তববাদী রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে হচ্ছে।
আশঙ্কা করা হয়েছে, রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটের স্বার্থে বিএনপি ইসলামপন্থী শক্তিগুলোর দাবির প্রতি অতিরিক্ত ছাড় দিলে ভবিষ্যতে এসব শক্তির রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তবে এটি লেখকের রাজনৈতিক মূল্যায়ন, নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস নয়।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন এবং ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে নিবন্ধে। লেখকের মতে, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পানি ও বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ভারতকে ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের বাজার ও বাণিজ্যিক সুবিধাকেও কৌশলগতভাবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে লেখক ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগ, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তার মতে, বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
লেখকের যুক্তি, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক শক্তির আদর্শ যদি বর্তমান সময়ে আবার বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
এই মতামতধর্মী নিবন্ধে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনীতির উত্থানকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও আঞ্চলিক রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সংযমের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। তবে নিবন্ধটির বেশ কিছু বক্তব্য লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন, তাই এগুলোকে চূড়ান্ত বা সর্বসম্মত বাস্তবতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সুত্রঃ ফার্স্টপোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au